Description
বইটি শুরু হয়েছে পর্বতারোহণ প্রশিক্ষক মীর শামছুল আলম বাবুর লেখা একটি নিবন্ধ দিয়ে। এভারেস্টের অনুসন্ধান ও এর নামকরণের ঐতিহাসিক পটভূমি ও কালচক্র তুলে ধরেছেন তিনি। লিখাটি পাঠকদের এভারেস্টের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেবে।
হিমালয়ে, বিশেষ করে এভারেস্টকে ঘিরে যেদিন থেকে পর্বতাভিযান শুরু হয়েছে সেদিন থেকে অভিযানের সাফল্য ব্যর্থতার সাথে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িয়ে আছে শেরপা জাতির নাম। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে অতি উচ্চতার এই লড়াকু সৈনিকদের অবদান ছাড়া সাধারণের পক্ষে এভারেস্ট আরোহণ একপ্রকার অসম্ভব। ক্লায়েন্ট হিসেবে আসা পর্বতারোহীদের অতি উচ্চতায় স্বাচ্ছন্দ নিশ্চিত করে এভারেস্ট আরোহণ করিয়ে আবার নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনে তারা। শেরপাদের এই অবদান ও এর বিনিময়ে তারা কি পায় সেই অবস্থা নিয়েই পরের নিবন্ধটি লিখেছেন অনিক সরকার।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের খুব সাধারণ পরিবারে জন্ম নেয়া একজন কিশোরীর পর্বতারোহণের শুরু ও জীবনে আসা প্রতিকূলতা, এভারেস্টে মৃত্যুর গ্রাস থেকে ফিরে আসার অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন পর্বতারোহী সুনীতা হাজরা।
এভারেস্ট আরোহণের জটিল ধাঁধাঁ সমাধানের জন্য এক বৈজ্ঞানিকের অবদান নিয়ে ভিন্ন আঙ্গিকের এক নিবন্ধ লিখেছেন সালেহীন আরশাদী।
তিব্বত দিক দিয়ে এভারেস্ট আরোহণের রুট আগের চেয়ে এখন বেশি জনপ্রিয়। ১৯২১ সাল থেকে তিব্বত দিক দিয়ে মোট নয় বার আরোহণের চেষ্টা করা হয়েছিল। তৎকালীন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সবচেয়ে দক্ষ পর্বতারোহীরা এই অভিযানগুলোতে অংশ নিয়েছিলেন। এতগুলো অভিযান চালানোর পরেও নর্থ কোল রহস্য ভেদ করা যায়নি। অতঃপর কিভাবে ভেদ হল এই নর্থ কোল রহস্য, সেই অভিযানের ঘটনা নিয়ে লিখেছেন আহমেদ পরাগ।
বাংলাদেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ পর্বতারোহীদের একজন এম. এ. মুহিত। একবার নয় দুইবার, দুদিক থেকে তিনি এভারেস্ট আরোহণ করেছেন। তিব্বতের মালভূমি থেকে নর্থ কোল আর নেপালের দক্ষিণ দিক থেকে দুর্গম খুম্বু আইসফল পেরিয়ে সাউথ কোল রুট, দুদিক থেকেই তিনি এভারেস্টকে দেখেছেন। কিন্তু এই গ্রন্থে তিনি লিখেছেন এভারেস্টের ফিরিয়ে দেওয়ার গল্প। পর্বতারোহণ সবসময় মধুর অনুভূতি দেয় না, প্রায়শই পর্বত আমাদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন ও দূর্বল মুহুর্তগুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। এই আপাত ব্যর্থতাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে কিভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা পাওয়া যায় পাঠক এই লিখায় সেটিই উপলব্ধি করবেন।
পৃথিবীর শীর্ষবিন্দু শুধু ছুঁতে চাওয়া নয়, এই পথ পাড়ি দিতে কতটা স্বতন্ত্র ও অভিনব চিন্তা করা যায়, কিভাবে অভিযানকে আরও মৌলিক করা যায়, এভারেস্টকে ভিন্ন চোখে দেখা পোলিশ হিমযোদ্ধাদের শীতকালীন এভারেস্ট অভিযান নিয়ে লিখেছেন সোয়াইব সাফি।
বর্তমান সময়ে এভারেস্ট অভিযানগুলোতে প্রস্তুতির আয়োজন হয় বিশাল, ক্যাম্পগুলোতে চলে মহা কর্মযজ্ঞ। নানা দেশ থেকে আসা নানা জাতির সমাবেশ ঘটে পৃথিবীর এই মিলনক্ষেত্রে। এত মানুষ আর কর্মযজ্ঞের ভেতরও একাকীত্ব এখানে এসে হানা দেয়, মৃত্যু কাঁধে এসে ভর করে। পশ্চিমবঙ্গের এভারেস্ট আরোহী কুন্তল কাঁড়ারের লেখায় এভারেস্ট অভিযানের এই দিকটি অধিক উচ্চারিত হয়েছে।
বাংলাদেশী নারীদের পর্দার আড়াল থেকে বেরিয়ে সর্বোচ্চ পথ পাড়ি দেওয়ার সাহস ও অনুপ্রেরণার নাম নিশাত মজুমদার। সাধারণ জীবন যাপন করা এক তরুণীর জীবনকে এভারেস্ট কিভাবে প্রভাবিত করেছে তাই নিয়ে তিনি লিখেছেন। লেখাটিতে এভারেস্ট আরোহণকালে একজন পর্বতারোহীকে শারীরিক সামর্থের পাশাপাশি কতটা মানসিক স্থিরতার পরীক্ষা দিতে হয় তা পাঠক অনেক তীব্রভাবে আঁচ করতে পারবেন।
এভারেস্টকে নিকট থেকে দেখার রোমাঞ্চ নিতে হিমালয়ে ছুটে গিয়েছিলেন সিরাজুল মুস্তাকিম পিয়াল। এভারেস্টের ক্লাসিক ট্রেইলে তার পদযাত্রার অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন পথ পরিক্রমা। এতটাই সাবলীলভাবে পথ ঘাট বর্ণনা করেছেন যা পড়লে পাঠকমাত্রই এভারেস্ট বেইজ ক্যাম্প পানে ছুটে যেতে চাইবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।
গ্রন্থের একদম শেষভাগে স্থান করে নিয়েছে ২০১১ সালে পর্বতারোহী দীপঙ্কর ঘোষের এভারেস্ট আরোহণকালের দারুণ কিছু আলোকচিত্র।











Reviews
There are no reviews yet.