আগের রাতে CNS Arena তে ক্যাম্পিং করার পর সকাল ১১টার দিকে আমরা সব কিছু গুছিয়ে চললাম জমিদার বাড়ি দর্শনে🏰। CNS Arena ক্যাম্প সাইট থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার গেলেই নরসীংদির ডাঙ্গা বাজার। বাজার থেকে ডানে কিছু দুর এগোলেই লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়ি, স্থানীয় ভাবে এটা উকিল বাড়ি নামেও পরিচিত। লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়িটি দ্বিতল বিশিষ্ট্য একটি ভবন। ভবনের মেছেতে কষ্টি পাথর দিয়ে ঢালাই করা। ছোট্ট একটি কারুকার্য খচিত দালান, বাগানবাড়ি, সাঁন বাঁধানো পুকুর ঘাট, পূজো করার জন্য পুকুরের চারপাশে তিনটি মঠ বা মন্দির ছিল (যার মাত্র একটি এখন অবশিষ্ট রয়েছে)। জমিদার লক্ষণ সাহা এই জমিদার বংশের মূল গোড়াপত্তনকারী। তবে কবে নাগাদ এই জমিদার বংশ এবং জমিদার বাড়িটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তার সঠিক তথ্য জানা যায়নি। লক্ষণ সাহার তিন পুত্র সন্তান ছিল। এদের মধ্যে ছোট ছেলে ভারত ভাগের সময় ভারতে চলে যান। এরপর পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার অল্প কিছুদিন আগে বড় ছেলেও ভারতে চলে যান। থেকে যান মেঝো ছেলে। তার ছিল এক পুত্র সন্তান। যার নাম ছিল বৌদ্ধ নারায়ণ সাহা। এই বৌদ্ধ নারায়ণ সাহাই পরবর্তীতে আহম্মদ আলী উকিলের কাছে উক্ত বাড়িটি বিক্রি করে দেন। তাই আহম্মদ আলী সাহেব পেশায় একজন উকিল হওয়াতে বর্তমানে অনেকে এই বাড়িটিকে উকিল বাড়ি নামেও চিনে। (সূত্রঃ wikipedia) বাড়ির শৈল্পিক সৌন্দর্য দেখার মতো। অবহেলার দরুন বাড়িটির জীর্ণ দশা হলেও একটু যত্ন এবং সামান্য মেরামত করলেই এটি হতে পারে নরসীংদির পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ। জমিদার বাড়ি দর্শন শেষে তমাল ভাইয়ের প্রস্তাবে স্থানীয় একটি দোকানে সুস্বাদু দৈ খেলাম। মুখে দেওয়ার সাথে সাথেই টের পেলাম একদম ভেজাল ছাড়া ফ্রেশ জিনিষ। এবার ফেরার পালা, শুক্রবার হওয়ায় রাস্তা ঘাট ফাঁকা, তাই খুব তাড়াতাড়িই বাসায় চলে আসতে পারলাম। 🗺️Google map location: 📍Zamindar bari- https://goo.gl/maps/pzxTBpnboib1i97C6 ⚠️প্রকৃতিকে পরিশুদ্ধ রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব তাই ভ্রমনে যেয়ে যেখানে সেখানে ময়লা ও অপচনশীল প্যাকেট (চিপসের প্যাকেট, বিস্কুটের প্যাকেট, পানির বোতল, পলিথিন, সিগারেটের উচ্ছিষ্ট অংশ ইত্যাদি) ফেলা থেকে বিরত থাকুন। ভ্রমণ হোক আনন্দময়, নিরাপদ, দায়িত্বশীল।








