বুধবার হঠাৎ করে টিপু ভাই ম্যাসেঞ্জারে ধাক্কাধাক্কি শুরু করে দিলো, “শুক্রবার কই যাওয়া যায়।” নতুন না, প্রতি শুক্রবার আসার আগেই এমন হয়। ভিউ আপু, বাপ্পি ভাই বুদ্ধি দিলেন সীতাকুণ্ডে যাওয়ার, ক্যাম্পিং-ও করা হবে। এরমধ্যে জুয়েল ভাই ভয় দেখালেন, একজায়গায় গলা পানি। একে তো সাঁতার জানি না, এর উপর ব্যাগ-টেন্ট নিয়ে তো বাচাঁর আশা নেই 😅 বৃস্পতিবার রাতের বাসে টিকেট করা হলো। চললাম, সবুজ ভাই, বাপ্পি ভাই, জুনায়েদ ভাই, ভিউ আপু, আনোয়ার ভাই আর আমি। দুঃখের বিষয়, ছুটি না পাওয়ায় সেই টিপু ভাইই যেতে পারলেননা। রিয়াদ ভাই সাথে যেতে পারলেন না, কিন্তু পরদিন দুপুরে সরাসরি সীতাকুণ্ডে জয়েন করেন। আর জুয়েল ভাই বাসা বদলের অজুহাত দেখিয়ে যেতে পারলেন না।
সীতাকুণ্ডের অন্যান্য ট্রেইলের মত বোয়ালিয়া ট্রেইলটাও অসম্ভব সুন্দর, বৃষ্টি হওয়াতে যেন আরো নতুন পরিচ্ছন্ন লাগছে। এর উপর ট্রেইলে আমরা ছাড়া আর কোন মানুষ নেই, কোন হইহট্টগোল নেই, শুধু প্রকৃতির নিজেস্ব শব্দ। কোন তাড়াহুড়ো নেই আমাদের, যেখানে ইচ্ছে বসছি, আড্ডা দিচ্ছি, ছবি তুলছি, নুডলস বানিয়ে খাচ্ছি, যে ঝর্ণায় যত ইচ্ছে সময় কাটাচ্ছি, পুরোই চিল। কলাতলী ঝর্ণাতে জোঁকেরা সবুজ ভাই, বাপ্পি ভাই আর ভিউ আপুকে নিয়ে পার্টি করেছে। সবুজ ভাইয়ের রক্ত মনে হয় মিষ্টি বেশী, তাই পুরো ব্যাচেলর পার্টি করেছে তাকে নিয়ে, সেই রক্তারক্তি ব্যাপার। আনোয়ার ভাই তিনবার অপরেশন করে রক্ত বন্ধের চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সাময়িক। একটু বেশি নড়াচড়া হলেই আবার রক্ত পরা শুরু হয়, রাতে পর্যন্ত এভাবে কয়েকবারে ব্যাচারা কয়েক বার রক্ত এভাবে রক্ত হারালেন। আমরা বোয়ালিয়া ঝর্ণা, আন্দার মানিক ঝর্ণা, কলাতলী ঝর্ণা, বাইশ্যাছড়া, নহাতে খুম, পালকাতা খুম, লতা বায়ানী দেখে বিকেল নাগাদ বাজারে ফিরে আসলাম। দুপুরের খাবার খেয়ে সবাই চললাম ক্যাম্প সাইটের উদ্দেশ্যে। রাতে আবার একপশলা বৃষ্টিও হলো। পরদিন যদিও নির্দিষ্ট কোন প্ল্যান ছিল না, হয়তো অন্য কোন ট্রেইলে ঘুরে আসা যেতো। কিন্তু আলসেমি আর সবুজ ভাইয়ের এত ব্লিডিংয়ের পর কারোই আর ইচ্ছে হলো না যাওয়ার। ক্যাম্প সাইটের কফি আর নুডলস দিয়ে নাস্তা করে আমরা ফিরতি পথ ধরলাম। ঢাকায় এসে মুক্তা বিরিয়ানি দিয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হলো আমাদের এই হঠাৎ একদিনের এই ক্যাম্পিং ট্রিপের।
🏕️⛰️ ২০২০, নামেও যেমন রয়েছে বিশ, বছরটা সত্যিই ছিল তেমন বিষে ভরপুর। বছরের শেষ দিন অন্যান্য বছরের মত না হলেও DMP এর নানাবিধ “না” সম্বলিত নির্দেশনা বাদ পরেনি এবারো। যাই হোক, ওসব পরে এবার আর সময় নষ্ট করিনি। কারণ এবারের বর্ষবরণের পরিকল্পনা যে ঢাকার বাইরে, বান্দরবানের এক অচেনা নির্জন পাহাড়ের চূড়ায় ক্যাম্পিং। সপ্তাহ খানেক আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে দিলাম। আমার একমাত্র তাবুটা পানিরোধী নয়। শীতকালে ক্যাম্পিং-এ পানিরোধী তাবু চাই, না হলে কুয়াশায় তাবু ভিজে ভেতরে বৃষ্টির মত পানি পরবে। নিঝুম দ্বীপের ক্যাম্পিং-এ একবার এই বাজে অভিজ্ঞতা হয়েছিল। যাই হোক, তাবুর ব্যাবস্থা হলো। এর মধ্যে Decathlon এর সুন্দর একটা sleeping bag উপহার পেয়ে গেলাম। এবার সব ক্যামেরার ব্যাটারি ও পাওয়ার ব্যাঙ্ক চার্জের পালা। সব শেষে সুন্দর compact করে ব্যাগ গুছানো। আমরা অনেকেই অনেক জায়গায় ঘুড়তে যাই, না বুঝে অনেক অতিরিক্ত জামা কাপড় নেই, সে গুলো compact করে না গুছানোর কারনে পরবর্তীতে কষ্ট হয়ে যায় অনেক। যাই হোক, এর মধ্যে সবুজ ভাই আর বাপ্পি ভাই মিলে বান্দরবান যাওয়ার টিকেটের ব্যবস্থাও করে ফেললেন। ৩১ ডিসেম্বর, অফিস থেকে একটু আগে আগে বাসায় ফিরে শেষ বারের মত সব কিছু দেখে নিয়ে বের হয়ে পরলাম ফকিরাপুল শ্যামলীর কাউন্টারের উদ্দেশ্যে। বাস ১০:৩০ এ হলেও হাতে একটু সময় নিয়েই বের হলাম, একেতো বছরের শেষ দিন, তার উপর আবার বৃহস্পতিবার। যাই হোক, নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সবাই কাউন্টারে উপস্থিত। Shobuj vai, Anwar vai, Zafar vai, Zonayed vai, Bappy vai, Tipu vai, Jony vai, Khan vai, Farhana View apu, Mou apu, Amy apu এবং আমি সহ আমরা ১২ জন। আমাদের ড্রাইভার সাহেব ভিডিও গেইমের মত করে শাপের মত একে বেকে বাস চালিয়ে ভোর ২টায় কুমিল্লা পৌঁছে যাত্রা বিরতি দিলেন। যাত্রা বিরতি শেষে আবার সেই ভিডিও গেইম। ২০২০ সালে ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে ২০২১ সালে গিয়ে নামলাম বান্দরবান শহরে! আমরা নাস্তা করতে করতে দ্যা প্রিন্স অব বান্দরবান ভাই আমাদের জন্য চান্দের গাড়ি পাঠিয়ে দিলেন। একটু পর ঘুম কাতুরে অবস্থায় উনি নিজেও হাজির। নাস্তা শেষে সকলে রওনা দিলাম বর্তমান হালের ক্রেজ দেবতাখুমের উদ্দেশ্যে। বান্দরবান শহর থেকে রোয়াংছড়ির দূরত্ব ২০ কিঃমিঃ। রোয়াংছড়ি থেকে কচ্ছপতলী ৫/৬ কিঃমিঃ। প্রথমে বাসে করে রোয়াংছড়ি, পরে ওখান থেকে সিএনজি নিয়ে কচ্ছপতলী যাওয়া যায়। বান্দরবান থেকে প্রতি ঘন্টায় রোয়াংছড়ির বাস ছাড়ে, ভাড়া ৬০ টাকা। আর রোয়াছড়ি থেকে কচ্ছপতলীর সিএনজি ভাড়া ১৫০ টাকার মতো। এছাড়া আপনি চাইলে বান্দরবান শহর থেকে সরাসরি জিপেও কচ্ছপতলী চলে যেতে পারেন। জিপ ভাড়া ১৮০০ টাকা। এক জিপে ১২/১৩ জন বসতে পারবেন। আমরা বান্দরবান থেকে আমারা সরাসরি রোয়াংছড়ির কচ্ছপতলী বাজারে চলে যাই। আর্মি ক্যাম্পে আগে থেকে বলা ছিল বলে কোন ধরনের ঝামেলা ছাড়াই ২ মিনিটে সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ, এখানে সম্পূর্ণ কৃতিত্ব Prince ভাইয়ের। ড্রেস চেঞ্জ করে ট্র্যাকিং শুরু, উদ্দেশ্য শিলবান্দা পাড়া। আমাদের সাথে গেলেন আমাদের পাইলট ক্রেসিং দাদা এবং নিময় বিধায় আমরা একজন স্থানীয় গাইডও নিলাম। শিলবান্দা যাওয়ার রাস্তা দুটো, একটা পাহাড়ের উপর দিয়ে শাল বনের ভেতর দিয়ে, আর একটা ঝিরি পথ। ঝিরি পথ অপেক্ষাকৃত সহজ আর সময়ও কম লাগে কিন্তু অনেক সুন্দর, যারা ট্র্যাকিং করে অভ্যস্ত নন তারা এই পথটি নিতে পারেন। তবে বর্ষায় পানি বেশি থাকায় ঝিরি পথ কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। পানি খুব বেশি হলে নৌকা নিয়ে যাওয়া যায়। চারপাশে পাখির ডাক, সবুজ বন, ছড়ানো ছিটানো ছোট বড় পাথর, আর কলকল শব্দে অবিরাম বয়ে যাওয়া ঝিরির পাশ দিয়ে শুধু হেঁটে চলা। কোন কোলাহল নেই, নেটওয়ার্কের বাহিরে। ঝিরি পথে প্রকৃতির অসাধরণ সৌন্দর্য দেখেতে দেখতে, সাথে চলছে টিপু ভাইয়ের ভিডিওগ্রাফি আর জুনায়েদ ভাইয়ের কিছু অসাধারণ ফটোসেশন করতে করতে প্রায় ১ ঘন্টা পর আমার শিলবান্দা পাড়ায় পৌঁছে যাই। সুন্দর নারিকেল গাছে ঘেরা ছিমছাম একটা পাড়া। এই পাড়া থেকে দেবতাকুম যেতে আরো ১০ মিনিট হাঁটতে হবে। শিলবান্দা গিয়ে প্রথমে পং সু আং খুম পার হতে হবে। পং সু আং খুম পার হওয়ার পর দেবতাখুমের শুরু। স্থানীয়দের কাছে এটা হল সোনাখুম। অনেকে আবার মারমা ভাষায় থংচিখুম নামেও ডাকেন। যাওয়ার সময় পরিষ্কার পানি আপনাকে মুগ্ধ করবে, দেবতাখুমে বাঁশের ভেলায় ভেসে আপনি অনায়াসে কাটিয়ে দিতে পারবেন অনেকটা সময়। স্থানীয়দের মতে প্রায় ৫০-৭০ ফুট গভীর এই খুমের দৈর্ঘ্য ৬০০ ফুট যা ভেলাখুম থেকে অনেক বড় এবং অনেক বেশী বন্য। খুমের মাঝে আলো প্রবেশ করে কম, আর পানি যেন হিম শীতল ঠাণ্ডা। কোন কোলাহল নেই, নেটওয়ার্কের বাহিরে। চারিপাশে নিস্তব্ধ সুনসান নিরাবতা, যেন এক ভূতুড়ে পরিবেশ। ফোটা ফোটা পানির শব্দে আরো ভূতুড়ে মনে হবে পরিবেশটা। বিশাল দুটি পাহাড়ের মাঝ দিয়েই চলে গেছে পথ যা ভেলায় করে পারি দিতে হবে। মাঝে মাঝে সুন্দর আলো ছায়ার খেলা, দুপাহাড়ের মাঝ দিয়ে কিছু কিছু জায়গায় সূর্যের আলো এসে পরেছে খুমের স্বচ্ছ নীলাভ পানিতে। প্রকৃতিকে খুব কাছে থেকে উপভোগ করতে পারবেন এখানটায়। দেবতাখুম এর ট্রেইল যেমন সুন্দর তেমনি ভয়ংকর। বর্ষায় গেলে ট্রেইলের ঝিরি/পাহাড়ের রূপে যেমন আপনার চোখ আটকাবে তেমনি পিচ্ছিল পাথুরে পথে পা ফসকে বড় ধরনের বিপদে পড়ার আশঙ্কাও থাকে পদে পদে। শীতকালে বৃষ্টি হয়না বলে এই সময় পানি থাকে অনেক স্বচ্ছ, এই খুমে কখনো পানি শুকায় না। খুমে ঘোরার জন্য বাশের ভেলা আর নৌকা দুটোই আছে। সবারই উচিৎ লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করা, লাইফ জ্যাকেট দেবতাখুমের ওখানেই আছে, আলাদা কোন খরচও নেই। দেবতাখুম দিন দিয়ে সেই দিনেই ফেরত আসা যায় বলে বেশ ভিড় থাকে, তাই সম্ভব হলে সরকারী ছুটি এবং শুক্র-শনিবার এড়িয়ে গেলে ভিড় কিছুটা কম পাবেন। দেবতাখুম দেখে বিকেলের দিকে কচ্ছপতলী বাজারে এসে দুপুরের খাবার (ভাত, আলু ভর্তা, মুরগী,ডাল) খেয়ে রওনা হই বান্দরবানের উদ্দেশ্যে। রাতে পাহাড়ের চূড়ায় ক্যাম্পিং করবো তাই বান্দরবান থেকে সব বাজার করে নিতে হবে। এটার কৃতিত্ব ভিউ আপু আর বাপ্পি ভাইয়ের। সুরমা মাছ, মুরগী সহ সব কিছু নিয়ে আবার জীপে উঠে বসলাম। খাবার পানি নিতে ভুললাম না। ঘন্টা খানেক চলার পর জীপ থেকে নেমে সবাই বাজার এবং পানি ভাগ করে নিলাম, ট্র্যাকিং শুরু এখান থেকে। এরই মধ্যে রাত নেমে এসেছে, পূব আকাশে পাহাড়ের উপর থেকে উকি দিচ্ছে বিশাল চাঁদ মামা, মাত্র ২ দিন আগে গিয়েছে ভরা পূর্ণিমা। টর্চের আলোয় উচু নিচু পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে এক সময় এসে পৌঁছালাম পাহাড়ের চূড়ায়, আমাদের ক্যাম্প হবে এখানেই। টর্চের আলোয় যার যার মত তাবু পিচ করে নেই। ভিউ আপু, খান ভাই এবং আমাদের পাইলট দাদা পাওয়ার ব্যাংকের লাইটে ক্যাম্পের একসাইডে আমাদের রাতের খাবার রান্না-বান্নায় ব্যস্ত হয়ে পরলেন (বেগুন ভর্তা, খিচুড়ি, মুরগির মাংস), অন্যদিকে সবুজ ভাই বার্নারে চা বানালো সবার জন্য। ঝড়ো বাতাসে তাবুতে বসে চললো আমাদের আড্ডা, আকাশের চাঁদে চারিদিক ছিল দিনের মত উজ্জল। এরই মাঝে পাশের তাবুতে আনোয়ার ভাই বিভিন্ন রিদমের নাসিকা গর্জন চলছে। বছরের প্রথম রাত, খাওয়া দাওয়া শেষ করে আড্ডাবাজি করে চাঁদের আলোতে তাবুতে ঘুম। সকাল ৬টায় উঠে বাহিরের মেঘ দেখি মেঘের ভেলা, একটু পর পূব আকাশে পাহাড়ের পিছন থেকে উকি দিলো সূর্য। মেঘের সমুদ্রের সাথে সূর্যোদয় দেখে আবার ঘুম। সকাল ৯টায় ঘুম থেকে উঠে কলাপাতায় খিচুড়ি আর মুরগীর মাংস দিয়ে নাস্তা। নাস্তা শেষে চায়ের সাথে চললো আড্ডা। পূবে দুরে বাংলাদেশের সীমান্তের শেষ পাহাড়শারি দেখা যাচ্ছে, আকাশ পরিষ্কার থাকলে শুনলাম পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের তটরেখাও দেখা যায়। দুপুরের দিকে তাবু গুটিয়ে চলে গেলাম জুম ঘরে। এরপর চললো জুমঘরে ল্যাটানো, উনো খেলা, আর সাথে সুরমা মাছ ভাজা। বিকেলে সবাই সব কিছু গুটিয়ে বেরিয়ে পরলাম। পাহাড় থেকে নেমে সাজু ভাইয়ের ক্যাফে নীলে গিয়ে আবার ল্যাটানো। এরই মধ্যে দলের অনেকে চললো নীলগিরি তে, সূর্যাস্তের সময়টা উপভোগ করতে। ক্যাফে নীলে চা-কফি খেয়ে সন্ধ্যার দিকে চলে এলাম বান্দরবান। এই ট্রিপে জাফর ভাইকে আমরা খুব মিস করেছি, উনি আমাদের সাথে থেকেও যেন ছিলেন না (বেচারার মন খারাপ ছিল)। বিঃ দ্রুঃ খুব শীঘ্র ক্যাম্পিং সাইটের সব কিছু ঠিক করে লোকেশন পিন পয়েন্ট করে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। …………………………………………………………………………. দেবতাখুমের খরচঃ · ঢাকা – বান্দরবানঃ নন-এসি বাস ৬২০/- এসি বাস · বান্দরবান – কচ্ছপতলি বাজারঃ জীপ ১৮০০/- থেকে ২০০০/- অথবা (বান্দরবান থেকে রোয়াংছড়ি বাস ভাড়া-৬০ টাকা রোয়াংছড়ি থেকে কচ্ছপতলী সিএনজি ভাড়া আনুমানিক ১৫০-২০০ টাকা · ভেলা এবং লাইফ জ্যাকেট ভাড়া ১৫০ টাকা জনপ্রতি। · গাইডের খরচ মোট-১০০০ টাকা। · দুপুরের খাবার খরচ- ২০০ টাকা জনপ্রতি। · যেহেতু ক্যাম্প গ্রাউন্ড এখনও পুরোপরি সবার জন্য খোলা হয়নি, তাই আমাদের ক্যাম্পিং এর বিস্তারিত খরচ এখনই প্রকাশ করছি না। এতে অন্যরা বিভ্রান্ত হতে পারেন। কিছু তথ্যঃ · রোয়াংছড়ি পুলিশ ফাঁড়িতে এন্ট্রি করতে হয়। · কচ্ছপতলীতে গিয়ে গাইডসহ আর্মি ক্যাম্পে রিপোর্ট করতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের/পাসপোর্ট এর দু কপি ফটোকপি রাখা আবশ্যক! · নেটওয়ার্ক এ সমস্যা হবে!! কচ্ছপতলী তে শুধু রবি/এয়ারটেল এর নেটওয়ার্ক পাবেন!! কিন্তু সেখান থেকে খুম পর্যন্ত যাওয়া আসার পথে আপনি পুরোটাই নেট ওয়ার্কের বাইরে থাকবেন। · দেবতাখুম যাওয়ার পথে শীলবান্ধা ঝর্না নামে একটা ঝর্না পাবেন। যাওয়ার পথে ঝর্নাটা দেখে যেতে ভুলবেন না। · বর্ষাকালেই খুমের আসল সৌন্দর্য দেখা যায়। তবে শীলবান্ধা ঝর্নার পরের ট্রেকিংটা খুবই চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে কারন ঝিরিপথ খুবই পিচ্ছিল থাকে। তাই এই ব্যাপারে আগে থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা ভালো। · অবশ্যই মনে রাখবেন রোয়াংছড়ি বাজার থেকে বান্দরবানের শেষ বাস বিকাল ৫টায়। এরপর আর বাস নাই। তবে সিএনজি সবসময় পাবেন। · কচ্ছপতলি বাজারে ট্যুরিস্টদের রাতে থাকার ব্যবস্থা আছে তবে আগে থেকে বলে রাখা ভালো। · আদিবাসীদের কালচারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করুন। এমন কিছু বলবেন না, যেটি অন্যকোনো জাতির মানুষ আপনাকে বললে আপনারও খারাপ লাগতো। · কোনো প্রকার অপচনশীল বস্তু পাহাড়ে ফেলবেন না। শুধু পাহাড় নয়, শহরেও ফেলবেন না। এটি আপনার ব্যক্তিত্বকে রিপ্রেজেন্ট করে। প্রকৃতিকে পরিশুদ্ধ রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব তাই ভ্রমনে যেয়ে যেখানে সেখানে ময়লা ও অপচনশীল প্যাকেট (চিপসের প্যাকেট, বিস্কুটের প্যাকেট, পানির বোতল, পলিথিন, সিগারেটের উচ্ছিষ্ট অংশ ইত্যাদি) ফেলা থেকে বিরত থাকুন। ভ্রমণ হোক আনন্দময়, নিরাপদ, দায়িত্বশীল। চিপসের প্যাকেট, পানির বোতল এ রকম জিনিস সেখানে সেখানে ফেলে পাহাড়ের পরিবেশ নষ্ট করবেন না….।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সবুজ ভাইয়ের ম্যাসেজ “তোমার না আমার সাথে আজ ক্যাম্পিং এ যাওয়ার কথা? কোথায় আছো, রেডি হও, আসতেছি ঘণ্টা খানিকের মধ্যে বাইক নিয়ে।” আমি তখন অফিসে, কোনো রকম প্রস্তুতি নেই 😮 সবুজ ভাইকে বললাম, উনি আশ্বস্ত করলেন, “🏕️তাবু থেকে শুরু করে যা যা লাগবে সব ওখানেই আছে, কিচ্ছু লাগবেনা।” আরকি, সবুজ ভাইয়ের সাথে বের হয়ে পরলাম🏍। ৩০০ ফিট বসুন্ধরা গেইটে জয়েন করলো জুনায়েদ ভাই, ভিউ আপু, বাপ্পি ভাই এবং জহির ভাই। কাঞ্চন ব্রিজ টোল প্লাজা পার হয়ে হাতের বামে Purbachal View Road ধরে ৭ কিলোমিটার এগোলে আতলাপুর বাজার। আতলাপুর বাজার থেকে ২ মিনিট সামনে এগিয়ে হাতের বামে 🏞 শীতলক্ষ্যা নদীর পাশেই ক্যাম্প গ্রাউন্ড CNS Arena. আমাদের আগেই সন্ধ্যায় আনোয়ার ভাই এবং পাভেল ভাই পৌছে গিয়েছিল🚲। ক্যাম্প গ্রাইন্ডে পৌছে দেখি এলাহি ব্যাপার! ☕চা-কফি বিস্কুট রেডি আমাদের জন্য। তাবু পিচ করা, ভেতরে তোশক, বালিশ, লেপ সবই আছে। ক্যাম্প ফায়ারও রেডি🔥। ক্যাম্প গ্রাউন্ডে দুইটা সেই হাই কমোড সহ বাথরুমও আছে🚽! আর বাথরুমে সাবান,শ্যাম্পু, টুথপেস্ট সবই আছে! পুরাই ল্যাক্সারিয়াস ব্যাপার স্যাপার✨। একটু পরেই আমাদের রাতের খাবার চলে আসলো🍽️। খাবার দেখে তো সবাই আর একবার অবাক হবার পালা- খিচুড়ি, মুরগির মাংস, ডিম ভাজি, সালাদ, কোক🥤। আর পরিমান দেখে সবারই একই চিন্তা- এত খাবার কি ভাবে শেষ করবো🤔। খাওয়া দাওয়ার পালা শেষ করে সবাই বসলাম ক্যাম্প ফায়ারের পাশে, গান-আড্ডা আর ভ্রমণ অভিজ্ঞতার ঝুলি নিয়ে। জুনায়েদ ভাইয়ের ফটোসেশন এর মাঝেই চলছে, উনার ছবি দেখে আর কেউ ছবি তোলার সাহসই পেলো না। ফোন দিয়ে যে এত সুন্দর ছবি তোলা যায়, সাথে না থাকলে হয়তো বিশ্বাসই করতাম না। ওহ, এর মাঝে সবুজ ভাই ছিল আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন- “ঢাকার অফিস তাহলে ক্যাম্পিয়েও সম্ভব”, মিটিংয়ে ব্যস্ত🤦♂️। গল্প করতে করতে রাত ১টা কখন যে বেজেছে বলতেই পারবো না🕐। এর মধ্যেই চিকেন bbq🍗 আর আমাদের সাথে করে আনা মাছের bbq রেডি। কিন্তু ৩ ঘণ্টা আগেই সবাই ভর পেট ডিনার করার পর কারো পেটে তো আর জায়গা নেই। চিকেন শেষ করার কিছুক্ষন পর আসলো ফিস bbq। মাছের চেহারা দেখে এবার আর কেউ দেরি করলো না, 🥄🔪🗡যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে ঝাপিয়ে পরলো মাছের উপর। মূহুর্তে মাছ গায়েব, যার যার পেটে চলে গিয়েছে। সারারাত গল্প করতে করতে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি ৪টা বাজে। ঘুমানোর পালা, তাবুতে ঢুকে লেপ মুড়ি দিয়ে ঘুম😴। ঘুম ভাঙলো ৬টায়, ভোঁরের আলো তখন ফুটছে কেবল🌞। তাঁবু থেকে বের হলাম, শীতের হালকা ঠাণ্ডা বাতাস, ঘাসের উপর সারা রাত পরা শিশির বিন্দু, তার উপর ভোঁরের সূর্যের আলো পরায় চিকচিক করছে। নদী দিয়ে মাঝে মাঝে মাঝারি আকারের জাহাজ চলে যাচ্ছে🚢। ঢাকার এত কাছে, নদীর পাশে নিরিবিলি পরিবেশে এমন একটা জায়গা, সত্যিই অসাধারন। সবাই ফ্রেশ হবার পর চলে আসলো আমাদের সকালের নাস্তা- পরোটা, ডিম ভাজি, সবজি আর চা। গতকালকের রাতের খাবার, চিকেন bbq(ফিস bbq বাদে), রাতে তাঁবুতে থাকা, সকালের নাস্তা- এই সবই CNS Arena-র প্যাকেজের মধ্যে (জনপ্রতি ১,৫০০ টাকা)। নাস্তা শেষে জাফর ভাই আর বাপ্পি ভাই নামলো নদীতে🏊। আনোয়ার ভাইয়ের পরীক্ষা থাকায় উনি বিদায় নিয়ে চলে গেলেন। ১১টার দিকে আমরা সব কিছু গুছিয়ে চললাম লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়ি দর্শনে🏰।