Blog

  • পোষাকের লেয়ার বা স্তরীকরণ

    পোষাকের লেয়ার বা স্তরীকরণ

    ট্রেকিং বা পর্বতাহরণে পোষাক নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।পোষাকগুলো এমন হবে যে আপনি কঠিন পরিবেশে সেগুলো পরিধান করবেন এবং তা হতে হবে ফ্লেক্সিবল, এমনভাবে ডিজাইন করা যেন আপনার কম্পোর্টনেস থাকে এবং মাক্সিমাম এফিসিয়েন্সি নিয়ে কাজ করতে পারেন।

    পাহাড়ে কোথাও ট্রেকিং বা অভিযাণের সময় আপনার ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় পোশাকগুলো লেয়ার বা স্তর করে ব্যবহার করা অপরিহার্য। একটি পুরু, ভারী বা মোটা পোষাকের পরিবর্তে একাধিক উপযুক্ত হালকা বা লাইটার স্তরের পোষাক পরিধান করা। এতে করে আপনি পরিস্থিতির সাথে ভালভাবে মানিয়ে নিতে সক্ষম হবেন। কারণ যে কোন সময়ে আবহাওয়া পরিবর্তরের সাথে সাথে বা পরিশ্রমের সাথে সাথে পোষাকের স্তর খুলে রাখতে পারেন বা পরিধান করতে পারেন।যেমন বলা যায় যে, সকালে ট্রেকিং শুরু করার সময় ঠাণ্ডা বেশি অনুভূত হয় তবে কিছু সময় ট্রেকিং করতে থাকলে গরম অনুভূত হয় বা ঘাম হতে থাকে। সেক্ষেত্রে কিছু পোষাক খুলে রাখা। অন্যক্ষেত্রে আবহাওয়া খারাপ হয়ে আসলে বা ঠাণ্ডার পরিমাণ বেশি অনুভূত হলে প্রয়োজনীত পোশাক পরিধান করা।

    পাহাড়ে কোথাও ট্রেকিং বা অভিযাণের সময় আপনার ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় পোশাকগুলো লেয়ার বা স্তর করে ব্যবহার করা অপরিহার্য। একটি পুরু, ভারী বা মোটা পোষাকের পরিবর্তে একাধিক উপযুক্ত হালকা বা লাইটার স্তরের পোষাক পরিধান করা। এতে করে আপনি পরিস্থিতির সাথে ভালভাবে মানিয়ে নিতে সক্ষম হবেন। কারণ যে কোন সময়ে আবহাওয়া পরিবর্তরের সাথে সাথে বা পরিশ্রমের সাথে সাথে পোষাকের স্তর খুলে রাখতে পারেন বা পরিধান করতে পারেন।যেমন বলা যায় যে, সকালে ট্রেকিং শুরু করার সময় ঠাণ্ডা বেশি অনুভূত হয় তবে কিছু সময় ট্রেকিং করতে থাকলে গরম অনুভূত হয় বা ঘাম হতে থাকে। সেক্ষেত্রে কিছু পোষাক খুলে রাখা। অন্যক্ষেত্রে আবহাওয়া খারাপ হয়ে আসলে বা ঠাণ্ডার পরিমাণ বেশি অনুভূত হলে প্রয়োজনীত পোশাক পরিধান করা।

    পোষাকের স্তরকে তিনটি ভাগে উল্ল্যেখ করা যায়; বেস লেয়ার, মিড লেয়ার এবং আউটার লেয়ার।

    প্রথমে আসি বেজ লেয়ারের কথায়ঃ

    – এটি প্রথম লেয়ার। এটিকে আমরা অনেকেই ইনারও বলে থাকি। বিশেষ করে থার্মাল ইনার শব্দগুলোই বেশি পরিচিত।

    – এই লেয়ারটি আর্দ্রতা দূর করে ত্বককে শুষ্ক রাখে।

    – এই লেয়ারটি স্বাভাবিকভাবেই হালকা ও দ্রুত শুকিয়ে যায় এমন হয়।

    – কটন নয়। ভেজা অবস্থায় ত্বকে লেগে থাকে, ইনসিউলেশন হয় না এবং ড্রাই হতে বেশি সময় নেয় এমন হওয়া উচিৎ নয়।

    মিড লেয়ারঃ

    – এটি উষ্ণতা বা ইনসিউলেশন লেয়ার/ নিরোধক লেয়ার। এটি গরম বাতাসকে ভিতরে রাখে এবং ঠান্ডা বাতাসকে বাইরে রাখে।

    – তাপমাত্রা এবং পরিবেশের উপর নির্ভর করে এই লেয়ারটি একাধিক আইটেম হতে পারে।

    – সাধারণত ফ্লিস, ডাউন বা সিন্থেটিক ইনসুলেশন হয়ে থাকে এই স্তরে।

    – ফ্লিসগুলি দ্রুত শুকানোর জন্য এবং ব্রিথেবল উষ্ণতার জন্য বেশ ভালো। অতি ঠান্ডা তাপমাত্রায় বা রাতে ক্যাম্পে বা কিছুটা অলস কাজে (Low intensity activities) ডাউন অত্যন্ত কার্যকর ও শরীর উষ্ণ রাখার জন্য দুর্দান্ত।

    আউটার লেয়ারঃ

    – বাতাস, বৃষ্টি এবং তুষার থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।

    – এটি বায়ুরোধী এবং জলরোধী উভয়ই হওয়া উচিৎ। তবে বেস লেয়ার ও মিড লেয়ার থেকে আর্দ্রতা ও অতিরিক্ত তাপকে বের করে দেবার জন্য আউটার লেকার ব্রিথেবল হওয়া উচিৎ।

  • মাউন্টেইন ইক্যুইপমেন্ট

    মাউন্টেইন ইক্যুইপমেন্ট

    এই লেখাটিতে একটি পর্বত অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় আইটেমগুলির একটি তালিকা এবং পর্বত অভিযানে প্রয়োজনীয় আরও সাখারণ বিষয়গুলো সংক্ষিপ আকারে তুলে ধরবো৷ লেখাটি কয়েকটি পর্ব আকারে উপস্থাপন করতে যাচ্ছে। অতএব, এই লেখাটি ও পরবর্তী লেখাগুলো পড়ার সময় গুরুত্ব দেবার জন্য অনুরোধ করছি।

    পর্বত অভিযান অভিযান পরিচালনা করা ব্যয়বহুল এবং আমরা জানি যে, High Altitude অভিযানগুলো দুঃসাহসিক কাজ হয়ে থাকে। সাধারণভাবে বলতে গেলে, যারা নিয়মিত পর্বত অভিযান করে তাদের বেশিরভাগ লোকের কাছে প্রয়োজনীয় অনেক পোশাক থাকে কারণ তারা ইতিমধ্যেই পেশা, নেশা, আনন্দ, শখ ইত্যাদি হিসাবে হাইকিং এবং পর্বত অভিযান করে। ফলে পর্বত অভিযানের কঠিন ও প্রচণ্ড ঠাণ্ডা পরিবেশের উপযোগী সকল উপকরণগুলোই তাদের থাকে।

    পর্বত অভিযানের উপকরণগুলো সবসময় অথরাইজড বা মানসম্পন্ন ও অনুমোদিত বিক্রেতার কাছ থেকে সংগ্রহের বা সরঞ্জাম কেনার সুপারিশ করা হয় কারণ মানসম্পন্ন সরঞ্জাম আপনাকে আশ্বস্ত করবে এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করবে বলে বিশ্বাস করা যায়। অনেকে নতুন সরঞ্জাম কেনার পরিবর্তে সেগুলো ভাড়া করে থাকে। যদি কোন ইকুইপমেন্ট ভাড়া নিয়ে থাকেন, অনুগ্রহ করে অবশ্যই নিশ্চিত হয়ে নিবেন যে সেটি ত্রুটি মুক্ত ও কার্যকর অবস্থায় আছে এবং আপনি এটি ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি একটি জুমার বা এসেন্ডিং ডিভাইস ভাড়া করে থাকেন তবে অবশ্যই নিশ্চিত করুন যে সেটি সম্পূর্ণভাবে কার্যকর আছে এবং কোনপ্রকার ত্রুটি বিচ্যুতি ছাড়াই লক ও আনলক হচ্ছে। পাশাপাশি জুমারের হ্যান্ডেল গ্রিপ, ক্যারাবিনার হোল, ট্রিগার এবং টিথগুলো সঠিক, ভালো ও সুবিন্যাস্ত অবস্থায় আছে।

    পোষাকের লেয়ার বা স্তরীকরণ

    ট্রেকিং বা পর্বতাহরণে পোষাক নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।পোষাকগুলো এমন হবে যে আপনি কঠিন পরিবেশে সেগুলো পরিধান করবেন এবং তা হতে হবে ফ্লেক্সিবল, এমনভাবে ডিজাইন করা যেন আপনার কম্পোর্টনেস থাকে এবং মাক্সিমাম এফিসিএন্সি নিয়ে কাজ করতে পারেন।

    পাহাড়ে কোথাও ট্রেকিং বা অভিযাণের সময় আপনার ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় পোশাকগুলো লেয়ার বা স্তর করে ব্যবহার করা অপরিহার্য। একটি পুরু, ভারী বা মোটা পোষাকের পরিবর্তে একাধিক উপযুক্ত হালকা বা লাইটার স্তরের পোষাক পরিধান করা। এতে করে আপনি পরিস্থিরিত সাথে ভালভাবে মানিয়ে নিতে সক্ষম হবেন। কারণ যে কোন সময়ে আবহাওয়া পরিবর্তরের সাথে সাথে বা পরিশ্রমের সাথে সাথে পোষাকের স্তর খুলে রাখতে পারেন বা পরিধান করতে পারেন।যেমন বলা যায় যে, সকালে ট্রেকিং শুরু করার সময় ঠাণ্ডা বেশি অনুভূত হয় তবে কিছু সময় ট্রেকিং করতে থাকলে গরম অনুভূত হয় বা ঘাম হতে থাকে। সেক্ষেত্রে কিছু পোষাক খুলে রাখা। অন্যক্ষেত্রে আবহাওয়া খারাপ হয়ে আসলে বা ঠাণ্ডার পরিমাণ বেশি অনুভূত হলে প্রয়োজনীত পোশাক পরিধান করা।

    পোষাকের স্তরকে তিনটি ভাগে উল্ল্যেখ করা যায়; বেস লেয়ার, মিড লেয়ার এবং আউটার লেয়ার।

    প্রথমে আসি বেজ লেয়ারের কথায়ঃ

    – এটি প্রথম লেয়ার। এটিকে আমরা অনেকেই ইনারও বলে থাকি। বিশেষ করে থার্মাল ইনার শব্দগুলোই বেশি পরিচিত।

    – এই লেয়ারটি আর্দ্রতা দূর করে ত্বককে শুষ্ক রাখে।

    – এই লেয়ারটি স্বাভাবিকভাবেই হালকা ও দ্রুত শুকিয়ে যায় এমন হয়।

    – কটন নয়। ভেজা অবস্থায় ত্বকে লেগে থাকে, ইনসিউলেশন হয় না এবং ড্রাই হতে বেশি সময় নেয় এমন হওয়া উচিৎ নয়।

    মিড লেয়ারঃ

    – এটি উষ্ণতা বা ইনসিউলেশন লেয়ার/ নিরোধক লেয়ার। এটি গরম বাতাসকে ভিতরে রাখে এবং ঠান্ডা বাতাসকে বাইরে রাখে।

    – তাপমাত্রা এবং পরিবেশের উপর নির্ভর করে এই লেয়ারটি একাধিক আইটেম হতে পারে।

    – সাধারণত ফ্লিস, ডাউন বা সিন্থেটিক ইনসুলেশন হয়ে থাকে এই স্তরে।

    – ফ্লিসগুলি দ্রুত শুকানোর জন্য এবং ব্রিথেবল উষ্ণতার জন্য বেশ ভালো। অতি ঠান্ডা তাপমাত্রায় বা রাতে ক্যাম্পে বা কিছুটা অলস কাজে (Low intensity activities) ডাউন অত্যন্ত কার্যকর ও শরীর উষ্ণ রাখার জন্য দুর্দান্ত।

    আউটার লেয়ারঃ

    – বাতাস, বৃষ্টি এবং তুষার থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।

    – এটি বায়ুরোধী এবং জলরোধী উভয়ই হওয়া উচিৎ। তবে বেস লেয়ার ও মিড লেয়ার থেকে আর্দ্রতা ও অতিরিক্ত তাপকে বের করে দেবার জন্য আউটার লেকার ব্রিথেবল হওয়া উচিৎ।

    পাদুকা (জুতা)

    নিঃসন্দেহে জুতা ট্রেকিং ও পর্বতারোহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ব্যক্তিগত এবং গুরুত্বপূর্ণ পছন্দের উপকরণ। আপনার জ্যাকেট, কিছুটা ঢিলেঢালা বা একটু টাইট হলেও এটি তার কাজ করবে। যদি আপনার জুতা ছোট বা বড় হয় তবে ভাবুনতো একবার কেমন পরিস্থিতি হবে! ছোট হলে আপনার পায়ের নখ উঠে যেতে পারে বা নখ আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে। অপর দিকে বড় হলে আপনার পায়ে বিরক্তিকর ফোস্কা (Blister) সৃষ্টি করতে পারে। ব্রিটিশ সেনাবাহিনী তাদের পরিধেয় বুটকে তাদের ল্যান্ড রোভার বলে – এগুলো সৈনিকদের অউটডোর কিটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

    অতএব, দোকানের তাক থেকে আপনার দিকে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা শত শত সুন্দর ডিজাইনের ও রঙের আকর্ষনীয় জুতা থেকে কিভাবে আপনি একটি ট্রেকিং বা একটি পর্বতের জন্য সঠিক জুতা বাছাই করবেন? ট্রেকিং বা পর্বতারোহণে যাবার আগে উপযুক্ত জুতা বাছাই করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বুদ্ধিমানের মত কাজ। অন্যথায় হিতে বিপরীত হতে সময় লাগবে না। এমনও হতে পারে যে ট্রেকিং বা পর্বতারোহণের মাঝ পথেই আপনাকে শুধু মাত্র জুতার কারণে ফিরে আসতে হতে পারে। এই অংশটি পড়ার পরে, আশা করি আপনি যে ট্রেকিং বা যে পর্বতে যান না কেন সঠিক জুতা বাছাই করে নিতে পারবেন।

    সাধারণ উপদেশ

    * একটি স্বনামধন্য ও ব্রান্ডেড অ্যাডভেঞ্চার দোকান থেকে জুতা ক্রয় করবেন।

    * দোকানে এটেন্ডেন্টকে বলুন আপনি আপনার জুতা কোথায় ও কি কাজে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছেন এবং তার পরামর্শের জন্য জিজ্ঞাসা করুন।

    * জুতা কিনতে তাড়াহুড়ো করবেন না। সময় নিন, একাধিক জুতা পরিধান করে দেখুন। যদি আপনি সেগুলো নিয়ে কম্ফোর্টেবল ফিল না হন তবে একটি ভিন্ন জোড়া ট্রাই করুন৷ জুতার জন্য আপনাকে একটি বড় অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে তাই অবশ্যই সঠিক জুতা বেছে নিন।

    * আপনার জুতায় অবশ্যই টো সাপোর্ট (Toe Guard) গোড়ালি সাপোর্ট (Ankle Guard) থাকা উচিত। পা মচকানো বা গোড়ালি মচকানোর জন্য পর্বত হচ্ছে একটি অত্যন্ত উপযুক্ত স্থান। জুতায় Ankle Guard থাকলে আপনার পা বিশেষ সুরক্ষিত থাকে।

    * জুতা অবশ্যই পানি নিরধক হওয়া উচিৎ।

    * ট্রেকিং-এ জুতা পরিধান করে আপনি কতটা কম্ফোর্ট ফিল করছেন সেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এমন জুতা কখনই কিনবেন না যা আপনার পা কে কম্ফোর্ট দেয় না। সেই সাথে ট্রেকিং জুতার সোল হতে হবে ফ্লেক্সিবল ও তুলনামূলক হালকা।

    * জুতায় অবশ্যই ভালো গ্রিপ করার ক্ষমতা থাকতে হবে।

    * বর্তমানে ব্রিথেবল জুতাও পাওয়া যায়।

    পাহাড়ের জুতারর ক্ষেত্রে আমাদের মনের মধ্যে ২টি বিকল্প চিন্তা আছে। একটি নিয়ম হিসাবে, জুতা যত ভারী হবে তত গরম হবে এবং বুট যত হালকা হবে আপনার নমনীয়তা এবং গতি তত বেশি হবে। এটি লক্ষ রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, যদি আবহাওয়া খারাপ হয়ে যায, তাপমাত্রা কমে যায় এবং বৃষ্টি শুরু হয়, তবে শরীরের প্রান্তস্থ (Peripheral)অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলি প্রথমে আক্রান্ত করে। সুতরাং, জুতা পছন্দ অবশ্যই এমন অবস্থার কথা বিবেচনা করেই নিতে হবে।

    হাই এল্টিটিউড ট্রেকিং ও পর্বতারোহণের জন্য জুতার বিষয়টি ৪টি ক্যাটাগরিতে আলাদা করে উল্ল্যেখ করে কথা বলে যায়ঃ

    মাউন্টেনিয়ারিং বুট (৭০০০-৮০০০ মিটারের পর্বতের জন্য):

    * মেরু অঞ্চল ও হাই এল্টিটিউড মাউন্টেইনের পরিবেশের জন্য বিশেশভাবে প্রস্তুত করা।

    * যারা নিয়মিত পর্বতারোহীদের জন্য উপযুক্তভাবে প্রস্তুতকৃত।

    * ১.৫ কেজি(৩.৩ পাউন্ড)-এর বেশি ওজনের হয়ে থাকে।

    * হাই অউটার লেয়ার, ডাবল হুল ও লুপ বন্ধ থাকে।

    * ক্রাম্পন আটকানোর সুবিধা থাকে।

    * গেইটার সংযুক্ত থাকে।

    * পর্বতে ব্যবহার্য্য অন্যান্য প্রকারের জুতার তুলনায় অধিক ব্যয় বহুল।

    আল্পাইন বুট (৬০০০ মিটার উচ্চতার জন্য):

    * পর্বতের পরিবেশের জন্য উপযুক্ত করে প্রস্তুত।

    * নিয়মিত বড় পর্বত আরোহীহণের জন্য প্রস্তুত করা।

    * ১ কেজি বা ২.২ পাউন্ডের বেশি ওজন হয়ে থাকে।

    * সোল অধিকতর শক্ত।

    * এঙ্কেল উচ্চতর হয়ে থাকে।

    * ক্রাম্পন আটকানোর সুবিধা থাকে।

    * ট্রেকিং বুটের তুলনায় ব্যয় বহুল

    হেভী ওয়েট ট্রেকিং বুটঃ

    * সাধারণত সম্পূর্ণ চামড়া দিয়ে তৈরী হয় তবে বর্তমানে কিছু কিছি সিনথেটিক ম্যাটেরিয়াল দিয়েও তৈরী করা হয়ে থাকে।

    * ১ কেজি বা ২.২ পাউন্ডের বেশি হয়ে থাকে।

    * সাধারণত ক্রাম্পন লাগানো যায় না। তবে কিছু কিছু বুটে ক্রাম্পন লাগানো যেতে পারে।

    * দীর্ঘ ব্যবহারকাল, ওয়াটার প্রুফ ও উষ্ণ হয়ে থাকে।

    * ব্যয় বহুল হয়ে থাকে।

    লাইট ওয়েট ট্রেকিং বুটঃ

    * সাধারণত ১ কেজি (২.২ পাউন্ড) থেকে ১.৫ কেজি (৩.৩ পাউন্ড) ওজনের হয়।

    * ব্যাকপ্যাকারদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় জুতা।

    * প্রায়শই সিনথেটিক ম্যাটেরিয়াল, সোয়েড ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে প্রস্তুত করা হয়ে থাকে।

    * এগুলো আরামদায়ক, ব্রিথেবল ও কুইক ড্রাই হয়ে থাকে।

    * নতুন অবস্থায় এই জুটাগুলো ওয়াটার প্রুফ, ব্রিথেবল হয়ে থাকে তবে বারবার ব্যবহার ও সময়ের সাথে সাথে এই বৈশিষ্টগুলো কার্যকারিতা হারায়।

    * হেভী ওয়েট ট্রেকিং বুটের তুলনায় কম টেকসই হয়।

    পর্বত

    যেহেতু ট্রেকিং ও পর্বতারোহণে কেমন বুট ব্যবহার করা হয় সে বিষয়ে কথা হয়েছে তাই এবার দেখা যাক পর্বতে কেমন আবহাওয়াগত পরিস্থিতি থাকতে পারে। বিশেষত ৬০০০ মিটার বার এর বেশি উচ্চতায় কেমন অবস্থা বিরাজ করতে পারে।

    তাপমাত্রা

    এক কথায় চরম বৈচিত্রময় ও উদাসীন। পর্বতের নিচের অংশে দিনের বেলায় ২০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মাঝামাঝি পর্যন্ত এবং পর্বতের চূড়ার দিকে (ঠান্ডা বাতাস সহ) হিমাঙ্কের নিচে ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে। পর্বতে ফ্রস্ট নিপ (Frost Nip) বা ফ্রস্ট বাইট (Frost Bite) অঙ্গ নিয়ে চলার থেকে উষ্ণ পা নিয়ে চলা সহজ। তাই পরামর্শ হচ্ছে, অবশ্যই ঠান্ডাকে বিবেচনা করে উপযুক্ত পোষাক ও জুতা চয়ন করা।

    বৃষ্টি

    যদিও অধিকাংশ ট্রেকিং অঞ্চলে বর্ষা মৌসুমের বাইরে (জুন-আগস্ট) সচরাচর ব্যতিক্রম ছাড় বৃষ্টি দেখা যায় না, তবুও এই উপমহাদেশে পর্বতাঞ্চলে কিছু সময়ের জন্য বর্ষা মৌসুমের বাইরেও বৃষ্টি আশা করাই যায়। তাই পা শুষ্ক ও উষ্ণ রাখতে উন্নতমানের গোর্টেক্স ওয়াটারপ্রুফ বুট পরিধান করা এবং গোর্টেক্স ও ব্রিথেবল আউটারশেল সাথে রাখা বঞ্চনীয়। সেই সাথে একটি মানসম্পন্ন পঞ্চ সাথে রাখতে হবে।

    স্নো বা তুষার

    উচ্চতার সাথে তুষারপাতের ধরণ ও পরিমাণের ভিন্নতা হয়। বছরের যে সময়ে আপনি ট্রেকিং বা পর্বতারোহণ করতে চান তার উপরও তুষারপাতের বিষয়টি নির্ভর করে থাকে। মাউন্টেনিয়ারিং বুট ও আপ্লাইন বুটগুলো তুষারের মধ্যে টেকনিক্যালি ও ক্রাম্পনসহ ববহারের উপযুক্ত করে প্রস্তুত করা হয়। অনেক বুটের সাথে গেইটার যুক্ত থাকে (Built in Gaiter)।আপনি যদি প্রফেশনাল পর্বতারোহী না হয়ে থাকেন বা হাই এল্টিটিউড পর্বতারোহী না হইয়ে থাকেন এবং ট্রেকিং করে থেকেন ও অল্প সময়ের জন্য তুষারময় বা বরফের অংশে (Snow and Ice Bound Zone) ট্রেকিং করেন তবে আপনি ট্রেকিং বুটের সাথে এক জোড়া ইয়াক্ট্রাক্স (Yaktrax) বা (যেটাকে আমরা অনেক সময় মাইক্রো স্পাইক ক্রাম্পন বলে থাকি) ব্যবহার করবেন। এগুলো খুব হালকা হয় এবং যে কোন নন-টেকনিক্যাল বুট বা লাইট ওয়েট ট্রেকিং বুটের সাথে মানানসই ও সহজে ব্যবহার করা যায়। স্নো বা আইসের উপরে ট্রেকিং করার সময় পায়ে ঠান্ডা লাগতে পারে তাই বুটের ভেতরে অন্তত একটি বা প্রয়োজনে একাধিক ভালো মোজা ব্যবহার করা অপরিহার্য।

    আপনার পা

    পা সবার কাছেই উইনিক ও গুরুত্বপূর্ণ। এই গুরুত্বের কারণ উল্ল্যেখ করা বা বর্ণনা করা বৃথা প্রচেষ্টা মাত্র। তাই আপনার পায়ের উপর পরামর্শ দেওয়ার বিষয়টি নাই বা বললাম। তবে একটা কথা না বলে পারছি না। আপনার পায়ের ধরণ, আপনার পায়ের আঙ্গুলের দৈর্ঘ্য (Toes), পায়ের প্রস্থ, এবং এমনও হতে পারে যে অতীতে আপনি পায়ে যদি কোন আঘাত পেয়ে থাকেন সেগুলোও চলার সময় আপনার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। পা এবং জুতা সম্পর্কের আরেকটি কথা বলতেই হচ্ছে, বিভিন্ন ব্রান্ডের জুতা বিভিন্ন ধরনের বা সাইজের পায়ের জন্য ভালো ফিট হয়। অর্থাৎ এক ব্রান্ডের জুতা সবার পায়ে ঠিক হবে এমনটা নয়। একেকজনের পায়ের জন্য একেক ব্রান্ডের জুতা ফিট হতে পারে। কিছু মডেলের জুতা চওড়া পায়ের জন্য প্রস্তুত করা হয় আবার কিছু মডেলের জুতা অপেক্ষাকৃত কম চওড়া পায়ের জন্য উপযুক্ত করে তৈরী করা হয়।

    সাইজ

    দেখুন, দীর্ঘ সময় ভ্রমণের কারণে আপনার পা ফুলে যেতে পারে। উষ্ণ পরিবেশে হাইকিং বা ট্রেকিং করার সময় এটি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। জুতার দোকানে দেখতে সুন্দর অনেক জুতা থাকে যেগুলো ট্রেকিং-এ ব্যবহার করলে সম্ভবত কয়েকদিন পরেই অস্বস্তির কারণ হয়ে যেতে পারে।

    জুতা ব্যক্তিগত পছন্দের উপকরণ তবে ট্রেকিং ও পর্বতারোহণের ব্যাপারে এটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত পছন্দের থেকেও অধিক গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় অনেকে সুন্দর দেখা যায় বা ছবিতে ভালো দেখা যাবে এ জন্য কিছুটা ত্যাগ স্বীকার করে কিছুটা আঁটসাঁট জুতা বেছে নেন। আঁটসাঁট বুট বা জুতাগুলো বিশেষ করে নিচে নামার সময় বা অবতরণের (Descending) সময় পায়ের আঙ্গুল ও নখগুলোকে বেশি পিড়া দেয়। এভাবে বেশি সময় ট্রেকিং করলে আঙ্গুল আঘাত প্রাপ্ত হবে ও নখ উঠে যেতে পারে। যদি সম্ভব হয়, আপনি যে মোজা ব্যবহার করে ট্রেকিং করবেন সেই একই মোজা পরে জুতা কেনার জন্য ট্রায়াল দিবেন।

    জুতা কেনার পর ট্রেকিং-এ যাবার পূর্বে অবশ্যই কয়েকদিন নিয়মিত ব্যবহার করবেন। এতে করে জুতা আপনার পায়ে মানিয়ে নিতে সময় পাবে। এ কথা বিশেষভাবে সত্য যে, সম্পূর্ণ নতুন জুতা বা বুট নিয়ে দীর্ঘ ট্রেকিং শুরু করার পর ফোস্কা পরা অনেক বেশি বিরক্তিকর হতে পারে।

    লেখাঃ Shahadat Hossain Sarker

  • ভ্রমণে সাথে থাকুক বেস্ট পাওয়ারব্যাংক

    ভ্রমণে সাথে থাকুক বেস্ট পাওয়ারব্যাংক

    একটা সময় ছিল যখন ভ্রমনপ্রিয় মানুষেরা ব্যাগে কিছু কাপড় ঢুকিয়েই ভ্রমণে বের হয়ে যেতো। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এই ভ্রমনপ্রিয় সাধারণ মানুষের চাহিদাকে দিয়েছে নতুন মাত্রা। এখন ভ্রমণে কাপড় চোপড়ের পাশাপাশি ব্যাগের একটা বেশ ভালো অংশ জুড়ে থাকে স্মার্টফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ, স্মার্টওয়াচ, নানা প্রকারের ছোট বড় ক্যামেরা, রিচার্জেবল টর্চ, ফ্যান, স্মার্টওয়াচ, ব্লোয়ার, রিমোট, ট্যান্ট লাইট সহ আরো কত শত ব্যাটারি চালিত গ্যাজেট। সারা ট্যুর জুড়ে এগুলো অনবরত ব্যাবহারের পর সেগুলোর চার্জ শেষ হয়ে গেলে এবং সেগুলো পুনরায় ব্যাবহারের প্রয়োজন হলে যে গ্যাজেটটি আপনার ফোন বা গ্যাজেটকে রিচার্জ করার ব্যাপারে নিশ্চিন্ত রাখে সেটিই হলো পাওয়ারব্যাংক। শুধু যাত্রাপথেই নয়, দৈনন্দিন লোডশেডিংয়ে ফোন ও প্রয়োজনীয় রিচার্জেবল গ্যাজেট চার্জ দিতেও এর ব্যাবহার ক্রমাগত বাড়ছে। প্রথম প্রজন্মের পাওয়ারব্যাংক নিজে চার্জ নেয়া এবং চার্জ দেয়া দুটোই ছিল খুবই স্লো, কিন্তু তবুও সেটি ভ্রমণকারীদের কাছে খুবই জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন হয়েছে পাওয়ারব্যাংকের প্রযুক্তিও। এসেছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের চার্জিং টেকনোলজি।এখন বাজার থেকে ফুটপাত, এমনকি বাসের হকারও এখন ঘুরে ঘুরে পাওয়ারব্যাংক বিক্রি করে। বাজারে এত এত পাওয়ারব্যাংকের মধ্যে আপনি কিনবেন কোনটি? সেটি নিয়েই আজকের লেখা।

    প্রথমেই আপনি নির্ধারণ করুন আপনার কাজের জন্য কেমন ক্যাপাসিটির ও আকারের পাওয়ারব্যাংক দরকার। বাজারে এখন ৫০০০-৮০০০০ মিলিএম্পিয়ারের পাওয়ারব্যাংক পাওয়া যাচ্ছে। ধরুন আপনি প্রতিদিন বের হওয়ার সময় ইমারজেন্সি ব্যাকআপ হিসেবে একটি পাওয়ারব্যাংক সাথে রাখতে চান, তাহলে সেটি অবশ্যই হতে হবে ৫০০০-১০০০০ মিলিএম্পিয়ারের মধ্যে, কারণ এই ক্যাপাসিটির পাওয়ারব্যাংগুলোর সাইজের কারণে আপনার পকেটে সহজেই বহনযোগ্য। আবার আপনি যদি দেশের বাইরে যান তাহলে অন্তত ২০,০০০ মিলিএম্পিয়ারের একটি বা দু’টি পাওয়ার ব্যাংক রাখুন। এভিয়েশন আইন অনুযায়ী আপনি কেবিন ব্যাগেজে সর্বোচ্চ ২৭০০০ মিলিএম্পিয়ার ক্যাপাসিটির সর্বোচ্চ দুটো পর্যন্ত পাওয়ারব্যাংক বহন করতে পারবেন। বাজারে একজেক্ট ২৭০০০ মিলিএম্পিয়ারের কোন পাওয়ারব্যাংক পাওয়া যায়না বলে আপনাকে ২০,০০০ মিলিএম্পিয়ারের পাওয়ারব্যাংক সাজেস্ট করা হচ্ছে। আর অবশ্যই বিমানে ভ্রমণকালে পাওয়ারব্যাংক সহ ব্যাটারি জাতীয় কোন আইটেম ভুলেও চেকইন ব্যাগেজে দিবেন না। আপনার সাথে থাকা কেবিন ব্যাগেজে রাখবেন। অন্যথায় চেকইন করার পরও এগুলো স্ক্যানিংয়ে ধরা পড়লে আপনাকে প্লেন থেকে ডেকে এনে লাগেজ খুলিয়ে ওগুলো হাতে ধরিয়ে দিবে যার জন্য কিছু ক্ষেত্রে ফ্লাইটও বিলম্বিত হয় এবং আপনিও প্লেনের অন্যান্য যাত্রীর বিরক্তির কারণ হবেন। দেশের ভেতরে কোথাও একাধিক দিন ভ্রমণ করলে এবং আপনার গ্যাজেট যদি বেশি হয় তবে ৩০,০০০-৮০,০০০ মিলিএম্পিয়ার ক্যাপাসিটির পাওয়ারব্যাংক আপনি আপনার চাহিদা অনুযায়ী ব্যাবহার করতে পারেন। মনে রাখবেন, যত বেশি ক্যাপাসিটি তত ভারী এবং বড় সাইজ। ৮০’০০০ মিলিএম্পিয়ার ক্যাপাসিটির একটি পাওয়ারব্যাংকের ওজন প্রায় দেড় কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে।

    এক্ষেত্রে একটি জিনিস জানিয়ে রাখা ভালো। অনেকেই মনে করেন ১০,০০০ মিলিএম্পিয়ার পাওয়ারব্যাংক মানে ৫০০০ মিলিএম্পিয়ারের একটি ব্যাটারি দুইবার চার্জ করা যাবে! ব্যাপারটি মোটেও এমন নয়। পাওয়ারব্যাংকের ক্যাপাসিটি থেকে আপনি সবসময় ২০-৩৫% পাওয়ার মাইনাস করে হিসেব করবেন। মানে পাওয়ারব্যাংকের ভেতরকার ব্যাটারিটি নিজে ১০,০০০ মিলিয়েম্পিয়ার ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন থাকলেও সেটি চার্জ নেয়া ও দেয়ার মাঝে এই ২০-৩৫% পাওয়ার স্বাভাবিকভাবেই পাওয়ার লস করবে। যত ভালো পাওয়ারব্যাংক তত কম কনভার্সন লস রেইট, আর দাম তত বেশি। তারমানে ১০,০০০ মিলিএম্পিয়ার একটি পাওয়ারব্যাংক দিয়ে আপনি ৬৫০০-৮০০০ মিলিএম্পিয়ার পর্যন্ত পাওয়ার ব্যাকআপ পেতে পারেন।

    এবার আসি পাওয়ারব্যাংকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার চার্জিং ওয়াট নিয়ে। বাজারে এখন খুব কম ফোনই পাওয়া যায় যেগুলো ১৮ ওয়াটের কম চার্জার ইউজ করে। আধুনিক ফ্ল্যাগশিপ ফোনগুলো ৪০-৬৫ ওয়াট পর্যন্ত চার্জ সাপোর্ট করে এখন যেগুলো চার্জ হতে এখন এক ঘণ্টারও অনেক কম সময় লাগে। স্মার্টফোনসহ প্রতিটা রিচার্জেবল ডিভাইস চার্জিং টেকনোলজিতে এত দ্রুত পরিবর্তন আনছে যে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আমরা ১২০ ওয়াট চার্জিং ক্যাপাসিটির ফোন আনবে যেটি ফুল চার্জ হতে সময় নিবে মাত্র ১৫-২০ মিনিট। বাজারে পাওয়ারব্যাংক ১০ ওয়াট থেকে ১০০ ওয়াট পর্যন্ত পাওয়া যায়। আমার সাজেশন থাকবে, আপনি এই মুহূর্তে অবশ্যই ২০ ওয়াটের কম ওয়াটের কোন পাওয়াব্যাংক না কেনার। এই ওয়াটের পাওয়ারব্যাংক আপনার ফোন এবং গ্যাজেটকে খুবই দ্রুত সময়ে চার্জ দিতে সক্ষম। এতে টাইপ সি পোর্ট, আইফোনের পোর্ট এবং টাইপ বি পোর্ট আছে কিনা দেখে নিন। আবার ইউএসবি চার্জিং পোর্ট কয়টি, ফাস্ট এবং স্লো উভয় চার্জিং পোর্ট আছে কিনা দেখুন। স্লো চার্জিং ইউএসবি পোর্টগুলো কালো এবং ফাস্ট চার্জিং ইউএসবি পোর্টগুলো মূলত কমলা কালারের হয়ে থাকে। স্লো ওয়াটের পোর্টগুলো আপনার ছোট স্লো চার্জ সাপোর্ট করা গ্যাজেট বা বারফোন চার্জে কাজ করবে। কারণ নানা গ্যাজেট চার্জ দিতে কখন কোন পোর্ট দরকার হয়ে যায় আপনি নিশ্চয়ই জানবেন না। তাই এইসব সব পোর্ট আছে এমন একটি পাওয়ারব্যাংক সংগ্রহ করুন। ২০ ওয়াট ছাড়াও এর বেশি ২২.৫ ওয়াট, ৩০ ওয়াট,৩৩ ওয়াট, ৩৫ওয়াট, ৬৫ ওয়াট এবং ১০০ ওয়াটের পাওয়ারব্যাংক বাজারে পাওয়া যায়। আপনার ফোনের চার্জ নেয়ার ক্যাপাসিটি অনুযায়ী পাওয়ারব্যাংক নির্বাচন করলে সেটি আপনার ফোনকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেয়ার মতোই তাড়াতাড়ি চার্জ দিতে সক্ষম হবে। ধরুন আপনার ফোন ৩০ ওয়াটের চার্জ সাপোর্ট করে, তাহলে আপনি একটি ৩০ ওয়াটের পাওয়ারব্যাংকই কিনুন। যাদের সাধারণত ম্যাকবুক বা আধুনিক ল্যাপটপ আছে তারাই মূলত ৬৫ ও ১০০ ওয়াটের পাওয়ারব্যাংক কিনে থাকে, কারণ এই পাওয়ারব্যাংক দিয়ে তারা তাদের সেই ল্যাপটপও চার্জ দিতে পারে যেটা এরচেয়ে কম ওয়াটের পাওয়ারব্যাংক দিয়ে সম্ভব না। আপনার ফোন ওয়্যারলেস চার্জিং সাপোর্ট করলে ওয়ারলেস চার্জিং সুবিধাসহ পাওয়ারব্যাংক নিতে পারেন। ইদানিং কিছু পাওয়ারব্যাংক পাওয়া যায় যেগুলোর সাথে চারজিং ক্যাবল এটাচ করা থাকে। এগুলো ব্যাবহার করা বেশ কনভিনিয়েন্ট কারণ এগুলোর সাথে আপনাকে আলাদা করে কোন চারজিং ক্যাবল বহন করতে হচ্ছে না। আবার কিছু পাওয়ারব্যাংক পাওয়া যায় যেগুলো নিজেই পাওয়ার এডাপ্টার হিসেবে কাজ করে। মানে সেগুলোর সাথে চারজিং পিন এটাচ করা থাকে। ভ্রমণে সেটি রাতে চার্জে ক্যাবল দিয়ে ফোনের সাথে লাগিয়ে দিল প্রথমে সেটি ফোনকে চার্জ করে, তারপর নিজে ১০০% চার্জ হয়ে থাকে সকাল হতে হতে। ট্রাভেলিংয়ে এটা বেস্ট!

    আরেকটি জিনিস বলে রাখা ভালো, শুধু ভালো পাওয়ারব্যাংক ব্যাবহার করলেই ফাস্ট চার্জিং সুবিধা পাবেন তা নয়। দ্রুত চার্জ করার জন্য অবশ্যই আপনাকে সেই ওয়াট সাপোর্ট করে তেমন একটি চারজিং ক্যাবলই ব্যাবহার করতে হবে। ফোনের বা গ্যাজেটের সাথে কোম্পানির দেয়া ক্যাবল ব্যাবহার করলে এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো সাপোর্ট পাবেন। তাছাড়া ফোনের চার্জিং ওয়াটের সাথে সাপোর্ট করে এমন ক্যাবলও বাজারে কিনতে পাবেন।

    এবার বলছি এর ব্র্যান্ড নিয়ে। পাওয়ারব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে কমদামি ও নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ড হলো Remax! এরপরই আসে Baseus, Xiomi, Joyroom, Usams এই ব্রান্ডগুলোই বাজারে সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য। দামি পাওয়ারব্যাংক এর মধ্যে Baseus এর ৩৩ ওয়াট ও ৬৫ ওয়াটের পাওয়ারব্যাংক এবং Anker এর পাওয়ারব্যাংক আপনাকে আরামদায়ক সাপোর্ট দিবে।

    এবার আসি দাম নিয়ে। বাজারে ডলার রেটের মূল্য বৃদ্ধির পর পাওয়ারব্যাংকের দাম বাজারে ১০%-৩০% বৃদ্ধি পেয়েছে। ২২.৫ ওয়াটের ১০,০০০ মিলিএম্পিয়ার পাওয়ারব্যাংক আপনি ব্র্যান্ড ও ফিচার ভেদে ১২০০-২৫০০ টাকার মধ্যে পাবেন। ২০,০০০ মিলিএম্পিয়ার পাবেন ১৬০০-৩৫০০ টাকার মধ্যে। এরকম ওয়াট এবং ক্যাপাসিটি বৃদ্ধির সাথে সাথে এর দাম সর্বোচ্চ ৬০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

    সবকিছু বিবেচনা করে আপনার প্রয়োজন এবং বাজেট মিলিয়ে নিয়ে নিন আপনার পছন্দের পাওয়ারব্যাংক যা আপনার যাত্রাপথে সাথে নিয়ে চলা ফোন এবং ইলেকট্রিক গ্যাজেটের ব্যাটারি ফুরিয়ে যাবার ভয় নিয়ে আসবে একদম শূন্যের কোঠায়। কিছু ভালো পাওয়ারব্যাংকের ছবি পোস্টের সাথে দিয়ে দেয়া হবে। তারপরও কোন প্রশ্ন থাকলে আমাকে ইনবক্সে খোঁচা মারতে পারেন।

    লেখাঃ জুনায়েদ আজিম চৌধুরী

    ছবিঃ ইন্টারনেট

    সুত্রঃ https://www.facebook.com/getalifeGALofficial

  • ট্রাভেলিংয়ে পাওয়ার থাকুক আপনার হাতে

    ট্রাভেলিংয়ে পাওয়ার থাকুক আপনার হাতে

    একটা সিচুয়েশনের গল্প বলি। ধরুন আপনি ইন্ডিয়াতেই গেলেন, এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যের রাতের ট্রেন, সারাদিন ফেইসবুক ইন্সটায় ট্রাভেল আপডেট দিয়ে ফোনের সাথে পাওয়ারব্যাংকের ব্যাটারিও প্রায় মুমূর্ষু। তবে সমস্যা নেই, রাতের ট্রেনে আছে চার্জ দেয়ার ব্যবস্থা। যথাসময়ে কু ঝিক ঝিক করে ট্রেন ছাড়লো। আপনি আপনার ট্রেনের অস্থায়ী বিছানায় শুয়ে সাথে থাকা চার্জারটা বের করে যেই পাওয়ার প্লাগে লাগাতে যাবেন দেখলেন ওমা! একি! এর পাওয়ার প্লাগ এমন কেন? এখন চলতি ট্রেনে আপনি এই গোল গোল তিন মাথার এডাপ্টার কোথায় পাবেন? ফলাফল, সারারাত ফোন বন্ধ চার্জের অভাবে, পাওয়ারব্যাংক মরে পড়ে আছে হাতের কাছে আরাম করে চার্জ দেয়ার সুবিধা থাকা সত্বেও!

    ব্যাপারটা আসলে ইগনোর করার মত, আবার না। কিন্তু যেটার সহজ সলিউশন আছে সেটা নিয়ে একটু আগে ভাবা হলে ক্ষতি কি? পৃথিবীর প্রতিটা রিজিওনের এবং দেশের পাওয়ার প্লাগ একেক রকম হয়। পুরো পৃথিবীতে ১৫ ধরণের পাওয়ার প্লাগ রয়েছে এবং অনেক দেশের পাওয়ার প্লাগ তারা নিজেদের মতোই ডেভেলপ করে নিয়েছে। আপনার বাসার ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের প্লাগ একারণেই কোনটা টাইপ সি (দুই পিন) বা টাইপ জি (চ্যাপ্টা তিন পিন)! কারণ তারা এসেছে একেক রিজিওন থেকে। ট্রাভেলে আপনার সাথে ক্যারি করা ইলেকট্রনিক ডিভাইস চার্জে প্রথম সাপোর্ট পাওয়ারব্যাংক। তারপর সেই পাওয়ারব্যাংক যখন ফুরিয়ে যাবে সেটি চার্জ দেয়ার টুল পাওয়ার এডাপ্টারটা আপনার ভ্রমণকারী দেশে কোন টাইপ তা যদি আগে থেকে জেনে সেভাবে প্রস্তুতি নিয়ে যাওয়া যায় তবে মাঝে মাঝে সেখানে গিয়ে অতিরিক্ত দামে ইনস্ট্যান্ট একটা পাওয়ার এডাপ্টার কেনার খরচটা যেমন বাঁচে, তেমনি ছোটখাটো অনাকাঙ্খিত ডিভাইস ব্ল্যাকআউট জনিত সমস্যাও এড়ানো যায় খুব সহজেই। এই সমস্যার অল-ইন-ওয়ান সমাধান একটা হতে পারে মাল্টি পয়েন্ট পাওয়ার এডাপ্টার! যেখানে একটি সিঙ্গেল এডাপ্টারে আপনি পেয়ে যাবেন প্রয়োজনীয় প্রায় সকল দেশের পাওয়ার সকেটের সলিউশন। এগুলোর সাথে আবার এক বা একাধিক ইউএসবি পোর্ট ও থাকে যা দিয়ে আপনি সহলেই আপনার ফোনের ক্যাবল যুক্ত করে যেকোন ডিভাইস চার্জ দিতে পারবেন। এই এডাপ্টারেরও আবার ভালো মন্দ আছে। এদের বেশিরভাগই হয় স্লো চারজিং পাওয়ারের। ভালো মানের একটি মাল্টি এডাপ্টার কিনতে আপনার খরচ করতে হবে প্রায় ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা যা আপনি প্রায় নিচিন্তে যেকোন দেশের পাওয়ার প্লাগে ব্যবহার করতে পারবেন। এগুলোতে টাইপ সি পিডি ফাস্ট চার্জিং পোর্ট ও দেয়া থাকে যা আপনার ডিভাইসকে প্রায় ২০-৩০ ওয়াট পর্যন্ত পাওয়ার সাপ্লাই করে খুব দ্রুত চার্জ করতে পারবে। তাই যেখানেই যাচ্ছেন এক মিনিট সময় নষ্ট করে দেখে নিন সেখানকার পাওয়ার প্লাগ, ভ্রমণ করুন নিশ্চিন্তে! হ্যাপি ট্রাভেলিং!

    লেখাঃ জুনায়েদ আজিম চৌধুরী

    ছবিঃ ইন্টারনেট

    সুত্রঃ www.facebook.com/getalifeGALofficial

  • ভালো ডলার, মন্দ ডলার!!

    ভালো ডলার, মন্দ ডলার!!

    ডলার কি আবার মন্দ হয় নাকি? চলুন জানা যাক! আজকের লেখাটা একদম নতুন ভ্রমণকারীদের জন্য! কারণ যারা রেগুলার বাইরে ভ্রমণ করেন তারা ব্যাপারগুলো জানলেও এভাবে হয়তো আপনাকে কখনো এসব ছোট্ট কিন্তু সিরিয়াস বিষয়টা নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে বলেনি বা বলতে চাইলে কোন কারণে ভুলে গেছেন।

    ভ্রমণে, চিকিৎসায়, ব্যাবসার কাজে বা পড়াশোনা, যে কারণেই হোক না কেন দেশের বাইরে যেতে বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে কার্ডে ডলারের পাশাপাশি আমরা অত্যাবশ্যকভাবেই ক্যাশ ডলার সংগ্রহ করে নিয়ে যাই, যেগুলো যে দেশে যাচ্ছি সেই দেশের মুদ্রায় ভাঙিয়ে সেই মুদ্রা দিয়ে সাধারণত আমরা সেখানে ভ্রমণের খরচাপাতি নির্বাহ করে থাকি। তবে এখানেও খুব খেয়াল করার কিছু ব্যাপার রয়েছে। ডলার সংগ্রহ আপনি যেখান থেকেই করেন না কেন সবসময় চেষ্টা করবেন ১০০ টাকার নোটগুলো সংগ্রহ করতে। ভাংতি ডলার সবসময় এভয়েড করবেন এবং খেয়াল রাখবেন সেগুলো কেউ যেন আপনাকে ‘আরে সমস্যা নাই’ বলে উচ্চমূল্যে গছিয়ে না দেয়। কারণ অন্য মুদ্রায় সেগুলো ভাঙানোর সময় আপনি ১০০ ডলারের নোট থেকে অনেক কম রেইট পাবেন। মোটকথা ভাংতি ডলারের মূল্য কম। একদমই পাওয়া না গেলে সর্বনিম্ন ৫০ ডলারের নোট পর্যন্ত নেয়া যেতে পারে, তবে এর কম না! এই লেখার উদ্দেশ্য ভাংতি ডলার চেনানো না অবশ্য। এটা একটা বোনাস সাজেশন। এখন নিচের ডলার দুটো লক্ষ্য করুন, দুটোই ১০০ ডলারে নোট। আপনি যখন মানি এক্সচেঞ্জ থেকে টাকার বিনিময়ে ডলার কিনবেন তখন সেখান থেকে আপনাকে কখনো কখনো নিচের দুই প্রকারের ডলার মিলিয়ে ঝিলিয়ে দিতে পারে। ধরুন আপনি ১০০০ ডলার সেইম রেটে কিনলেন এবং বিনিময়ে ছবির উপরের ডলারের মত দেখতে ১০০ ডলারের নোট দিলো তিনটা, নিচের ডলারের মত দেখতে নোট দিলো সাতটা। মূল্যমানের হিসেবে আপনি আসলেই ১০০০ ডলারই পেলেন। তবে এখানেই লক্ষ্য করার বিষয়! ছবির উপরের ডলারটি মূলত পুরাতন ১০০ টাকার নোট এবং নিচের নোটটি বর্তমানে প্রচলিত ১০০ ডলারের নোট। এর মানে এই নয় উপরের পুরাতন নোটটি অচল নোট! উপরের ডলারটি আপনাকে মানি এক্সচেঞ্জ নীরবে গছিয়ে দিলে সেটি আপনার গন্তব্য দেশে বিনিময় করার সময় আপনি কিছুটা কম মূল্যমান পাবেন, আবার কপাল খারাপ থাকলে অনেক জায়গায় ভাঙাতেই চাইবে না! মূলত এই ১০০ ডলারের পুরাতন নোটের মূল্যমান নতুন নোটের মূল্যমানের চেয়ে বেশ কমই হয়ে থাকে যেটা না জানলে মানি এক্সচেঞ্জ নতুন ডলারের মাঝখানে মাঝে মধ্যে এরকম পুরাতন ডলার আপনাকে নতুনের দামে গছিয়ে দিয়ে অধিক মুনাফা করার ট্রাই করতে পারে। তাই ডলার নেয়ার সময় অবশ্যই নিশ্চিত করুন যে আপনি নতুন ডলারটাই পেয়েছেন। আবার লক্ষ্য করলে দেখবেন আমাদের লোকাল মুদ্রা, মানে টাকার উপরে আমরা প্রেমের চিঠি থেকে শুরু করে সখিনার মায়ের নাম্বার, বান্ডেলে টাকার সংখ্যা, ভালো বন্ধু চেয়ে বিজ্ঞাপন অনেক কিছু লিখে থাকি। মনে রাখবেন, আমেরিকান ডলারে কলমের হাফ ইঞ্চি দাগ থাকলেও সেই ডলার আপনি ভাঙাতে পারবেন না! এমনকি অনেক মানি এক্সচেঞ্জ ডলারে তাদের নিজস্ব সিল ব্যাবহার করে। সেই কারণে ডলারগুলো অচল হয়ে না গেলেও কপাল খারাপ থাকলে বিদেশে মানি এক্সচেঞ্জে ঝামেলায় পড়তে পারেন। তাই যখনই কোথাও থেকে ডলার ক্রয় করবেন অবশ্যই খেয়াল করবেন ডলারটিতে ছেড়া ফাটা বা এর কোথাও কোন তিল পরিমান দাগ আছে কিনা এবং ডলারটি নতুন ডলার কিনা! নগদ টাকা দিয়ে ডলার কিনছেন, অবশ্যই সেগুলো যেন আপনার পরবর্তী অচেনা দেশে ভোগান্তির কারণ না হয়। 😊

    লেখাঃ জুনায়েদ আজিম চৌধুরী

    ছবিঃ ইন্টারনেট

    সুত্রঃ https://www.facebook.com/getalifeGALofficial

  • সীতাকুণ্ডে ক্যাম্পিং

    সীতাকুণ্ডে ক্যাম্পিং

    বুধবার হঠাৎ করে টিপু ভাই ম্যাসেঞ্জারে ধাক্কাধাক্কি শুরু করে দিলো, “শুক্রবার কই যাওয়া যায়।” নতুন না, প্রতি শুক্রবার আসার আগেই এমন হয়। ভিউ আপু, বাপ্পি ভাই বুদ্ধি দিলেন সীতাকুণ্ডে যাওয়ার, ক্যাম্পিং-ও করা হবে। এরমধ্যে জুয়েল ভাই ভয় দেখালেন, একজায়গায় গলা পানি। একে তো সাঁতার জানি না, এর উপর ব্যাগ-টেন্ট নিয়ে তো বাচাঁর আশা নেই 😅 বৃস্পতিবার রাতের বাসে টিকেট করা হলো। চললাম, সবুজ ভাই, বাপ্পি ভাই, জুনায়েদ ভাই, ভিউ আপু, আনোয়ার ভাই আর আমি। দুঃখের বিষয়, ছুটি না পাওয়ায় সেই টিপু ভাইই যেতে পারলেননা। রিয়াদ ভাই সাথে যেতে পারলেন না, কিন্তু পরদিন দুপুরে সরাসরি সীতাকুণ্ডে জয়েন করেন। আর জুয়েল ভাই বাসা বদলের অজুহাত দেখিয়ে যেতে পারলেন না।

    সীতাকুণ্ডের অন্যান্য ট্রেইলের মত বোয়ালিয়া ট্রেইলটাও অসম্ভব সুন্দর, বৃষ্টি হওয়াতে যেন আরো নতুন পরিচ্ছন্ন লাগছে। এর উপর ট্রেইলে আমরা ছাড়া আর কোন মানুষ নেই, কোন হইহট্টগোল নেই, শুধু প্রকৃতির নিজেস্ব শব্দ। কোন তাড়াহুড়ো নেই আমাদের, যেখানে ইচ্ছে বসছি, আড্ডা দিচ্ছি, ছবি তুলছি, নুডলস বানিয়ে খাচ্ছি, যে ঝর্ণায় যত ইচ্ছে সময় কাটাচ্ছি, পুরোই চিল। কলাতলী ঝর্ণাতে জোঁকেরা সবুজ ভাই, বাপ্পি ভাই আর ভিউ আপুকে নিয়ে পার্টি করেছে। সবুজ ভাইয়ের রক্ত মনে হয় মিষ্টি বেশী, তাই পুরো ব্যাচেলর পার্টি করেছে তাকে নিয়ে, সেই রক্তারক্তি ব্যাপার। আনোয়ার ভাই তিনবার অপরেশন করে রক্ত বন্ধের চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সাময়িক। একটু বেশি নড়াচড়া হলেই আবার রক্ত পরা শুরু হয়, রাতে পর্যন্ত এভাবে কয়েকবারে ব্যাচারা কয়েক বার রক্ত এভাবে রক্ত হারালেন। আমরা বোয়ালিয়া ঝর্ণা, আন্দার মানিক ঝর্ণা, কলাতলী ঝর্ণা, বাইশ্যাছড়া, নহাতে খুম, পালকাতা খুম, লতা বায়ানী দেখে বিকেল নাগাদ বাজারে ফিরে আসলাম। দুপুরের খাবার খেয়ে সবাই চললাম ক্যাম্প সাইটের উদ্দেশ্যে। রাতে আবার একপশলা বৃষ্টিও হলো। পরদিন যদিও নির্দিষ্ট কোন প্ল্যান ছিল না, হয়তো অন্য কোন ট্রেইলে ঘুরে আসা যেতো। কিন্তু আলসেমি আর সবুজ ভাইয়ের এত ব্লিডিংয়ের পর কারোই আর ইচ্ছে হলো না যাওয়ার। ক্যাম্প সাইটের কফি আর নুডলস দিয়ে নাস্তা করে আমরা ফিরতি পথ ধরলাম। ঢাকায় এসে মুক্তা বিরিয়ানি দিয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হলো আমাদের এই হঠাৎ একদিনের এই ক্যাম্পিং ট্রিপের।

  • শশী লজ (Shoshi Lodge)

    শশী লজ (Shoshi Lodge)

    মুক্তাগাছা জমিদার বংশের উত্তরসূরী মহারাজা সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী ঊনবিংশ শতকের শেষদিকে ময়মনসিংহ শহরের কেন্দ্রস্থলে ৯ একর ভূমির ওপর একটি অসাধারণ দ্বিতল ভবন নির্মাণ করলেন। নিঃসন্তান জমিদার সূর্যকান্ত দত্তক পুত্র শশীকান্ত আচার্য চৌধুরীর নামে এই ভবনের নাম রাখেন শশী লজ। বিখ্যাত এই ভবনটি ১৮৯৭ সালের ১২ জুন গ্রেট ইন্ডিয়ান ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হলে ১৯০৫ সালে ঠিক একই স্থানে নতুনভাবে শশী লজ নির্মাণ করেন পরবর্তী জমিদার শশীকান্ত আচার্য চৌধুরী। শশীলজের মূল ফটকে রয়েছে ১৬টি গম্বুজ। মূল ভবনের সামনে রয়েছে বাগান। সেই বাগানের মাঝখানে আছে শ্বেতপাথরের ফোয়ারা, যার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে সুদূর ইতালি থেকে আনানো গ্রিক দেবী ভেনাসের মর্মর মূর্তি। ১৮ টি বিশাল কক্ষের মূল ভবনের পেছনে আছে দোতলা স্নানঘর, পুকুর এবং মার্বেল পাথরের নির্মিত ঘাট। ভেতরে প্রায় প্রতিটি ঘরেই রয়েছে ছাদ থেকে ঝুলন্ত, প্রায় একই রকম দেখতে বেশ কয়েকটি ঝাড়বাতি। সাধারণ বাসভবন ছাড়াও বাড়িটিতে আছে নাচঘর, স্নানঘর। স্নানঘরে রয়েছে একটি সুড়ঙ্গ। ধারণা করা হয় এই সুড়ঙ্গপথে মুক্তাগাছা যাওয়ার ব্যবস্থা ছিল। মূল ভবনের পেছনভাগেও রয়েছে একটি স্নানঘর। পিছনের স্নানঘরটি দোতলা। পুকুরটির ঘাট মার্বেল পাথরে বাঁধানো। ১৯৫২ সাল থেকে শশী লজ ব্যবহৃত হয়েছে মহিলা শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসাবে। ২০১৫ সালে ৪ এপ্রিল জাদুঘর স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর শশী লজটি অধিগ্রহণ করে।

  • বান্দরবানে পিতং পাহাড়ের চুড়ায় ক্যাম্পিং

    বান্দরবানে পিতং পাহাড়ের চুড়ায় ক্যাম্পিং

    🏕️⛰️ ২০২০, নামেও যেমন রয়েছে বিশ, বছরটা সত্যিই ছিল তেমন বিষে ভরপুর। বছরের শেষ দিন অন্যান্য বছরের মত না হলেও DMP এর নানাবিধ “না” সম্বলিত নির্দেশনা বাদ পরেনি এবারো। যাই হোক, ওসব পরে এবার আর সময় নষ্ট করিনি। কারণ এবারের বর্ষবরণের পরিকল্পনা যে ঢাকার বাইরে, বান্দরবানের এক অচেনা নির্জন পাহাড়ের চূড়ায় ক্যাম্পিং। সপ্তাহ খানেক আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে দিলাম। আমার একমাত্র তাবুটা পানিরোধী নয়। শীতকালে ক্যাম্পিং-এ পানিরোধী তাবু চাই, না হলে কুয়াশায় তাবু ভিজে ভেতরে বৃষ্টির মত পানি পরবে। নিঝুম দ্বীপের ক্যাম্পিং-এ একবার এই বাজে অভিজ্ঞতা হয়েছিল। যাই হোক, তাবুর ব্যাবস্থা হলো। এর মধ্যে Decathlon এর সুন্দর একটা sleeping bag উপহার পেয়ে গেলাম। এবার সব ক্যামেরার ব্যাটারি ও পাওয়ার ব্যাঙ্ক চার্জের পালা। সব শেষে সুন্দর compact করে ব্যাগ গুছানো। আমরা অনেকেই অনেক জায়গায় ঘুড়তে যাই, না বুঝে অনেক অতিরিক্ত জামা কাপড় নেই, সে গুলো compact করে না গুছানোর কারনে পরবর্তীতে কষ্ট হয়ে যায় অনেক। যাই হোক, এর মধ্যে সবুজ ভাই আর বাপ্পি ভাই মিলে বান্দরবান যাওয়ার টিকেটের ব্যবস্থাও করে ফেললেন। ৩১ ডিসেম্বর, অফিস থেকে একটু আগে আগে বাসায় ফিরে শেষ বারের মত সব কিছু দেখে নিয়ে বের হয়ে পরলাম ফকিরাপুল শ্যামলীর কাউন্টারের উদ্দেশ্যে। বাস ১০:৩০ এ হলেও হাতে একটু সময় নিয়েই বের হলাম, একেতো বছরের শেষ দিন, তার উপর আবার বৃহস্পতিবার। যাই হোক, নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সবাই কাউন্টারে উপস্থিত। Shobuj vai, Anwar vai, Zafar vai, Zonayed vai, Bappy vai, Tipu vai, Jony vai, Khan vai, Farhana View apu, Mou apu, Amy apu এবং আমি সহ আমরা ১২ জন। আমাদের ড্রাইভার সাহেব ভিডিও গেইমের মত করে শাপের মত একে বেকে বাস চালিয়ে ভোর ২টায় কুমিল্লা পৌঁছে যাত্রা বিরতি দিলেন। যাত্রা বিরতি শেষে আবার সেই ভিডিও গেইম। ২০২০ সালে ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে ২০২১ সালে গিয়ে নামলাম বান্দরবান শহরে! আমরা নাস্তা করতে করতে দ্যা প্রিন্স অব বান্দরবান ভাই আমাদের জন্য চান্দের গাড়ি পাঠিয়ে দিলেন। একটু পর ঘুম কাতুরে অবস্থায় উনি নিজেও হাজির। নাস্তা শেষে সকলে রওনা দিলাম বর্তমান হালের ক্রেজ দেবতাখুমের উদ্দেশ্যে। বান্দরবান শহর থেকে রোয়াংছড়ির দূরত্ব ২০ কিঃমিঃ। রোয়াংছড়ি থেকে কচ্ছপতলী ৫/৬ কিঃমিঃ। প্রথমে বাসে করে রোয়াংছড়ি, পরে ওখান থেকে সিএনজি নিয়ে কচ্ছপতলী যাওয়া যায়। বান্দরবান থেকে প্রতি ঘন্টায় রোয়াংছড়ির বাস ছাড়ে, ভাড়া ৬০ টাকা। আর রোয়াছড়ি থেকে কচ্ছপতলীর সিএনজি ভাড়া ১৫০ টাকার মতো। এছাড়া আপনি চাইলে বান্দরবান শহর থেকে সরাসরি জিপেও কচ্ছপতলী চলে যেতে পারেন। জিপ ভাড়া ১৮০০ টাকা। এক জিপে ১২/১৩ জন বসতে পারবেন। আমরা বান্দরবান থেকে আমারা সরাসরি রোয়াংছড়ির কচ্ছপতলী বাজারে চলে যাই। আর্মি ক্যাম্পে আগে থেকে বলা ছিল বলে কোন ধরনের ঝামেলা ছাড়াই ২ মিনিটে সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ, এখানে সম্পূর্ণ কৃতিত্ব Prince ভাইয়ের। ড্রেস চেঞ্জ করে ট্র্যাকিং শুরু, উদ্দেশ্য শিলবান্দা পাড়া। আমাদের সাথে গেলেন আমাদের পাইলট ক্রেসিং দাদা এবং নিময় বিধায় আমরা একজন স্থানীয় গাইডও নিলাম। শিলবান্দা যাওয়ার রাস্তা দুটো, একটা পাহাড়ের উপর দিয়ে শাল বনের ভেতর দিয়ে, আর একটা ঝিরি পথ। ঝিরি পথ অপেক্ষাকৃত সহজ আর সময়ও কম লাগে কিন্তু অনেক সুন্দর, যারা ট্র্যাকিং করে অভ্যস্ত নন তারা এই পথটি নিতে পারেন। তবে বর্ষায় পানি বেশি থাকায় ঝিরি পথ কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। পানি খুব বেশি হলে নৌকা নিয়ে যাওয়া যায়। চারপাশে পাখির ডাক, সবুজ বন, ছড়ানো ছিটানো ছোট বড় পাথর, আর কলকল শব্দে অবিরাম বয়ে যাওয়া ঝিরির পাশ দিয়ে শুধু হেঁটে চলা। কোন কোলাহল নেই, নেটওয়ার্কের বাহিরে। ঝিরি পথে প্রকৃতির অসাধরণ সৌন্দর্য দেখেতে দেখতে, সাথে চলছে টিপু ভাইয়ের ভিডিওগ্রাফি আর জুনায়েদ ভাইয়ের কিছু অসাধারণ ফটোসেশন করতে করতে প্রায় ১ ঘন্টা পর আমার শিলবান্দা পাড়ায় পৌঁছে যাই। সুন্দর নারিকেল গাছে ঘেরা ছিমছাম একটা পাড়া। এই পাড়া থেকে দেবতাকুম যেতে আরো ১০ মিনিট হাঁটতে হবে। শিলবান্দা গিয়ে প্রথমে পং সু আং খুম পার হতে হবে। পং সু আং খুম পার হওয়ার পর দেবতাখুমের শুরু। স্থানীয়দের কাছে এটা হল সোনাখুম। অনেকে আবার মারমা ভাষায় থংচিখুম নামেও ডাকেন। যাওয়ার সময় পরিষ্কার পানি আপনাকে মুগ্ধ করবে, দেবতাখুমে বাঁশের ভেলায় ভেসে আপনি অনায়াসে কাটিয়ে দিতে পারবেন অনেকটা সময়। স্থানীয়দের মতে প্রায় ৫০-৭০ ফুট গভীর এই খুমের দৈর্ঘ্য ৬০০ ফুট যা ভেলাখুম থেকে অনেক বড় এবং অনেক বেশী বন্য। খুমের মাঝে আলো প্রবেশ করে কম, আর পানি যেন হিম শীতল ঠাণ্ডা। কোন কোলাহল নেই, নেটওয়ার্কের বাহিরে। চারিপাশে নিস্তব্ধ সুনসান নিরাবতা, যেন এক ভূতুড়ে পরিবেশ। ফোটা ফোটা পানির শব্দে আরো ভূতুড়ে মনে হবে পরিবেশটা। বিশাল দুটি পাহাড়ের মাঝ দিয়েই চলে গেছে পথ যা ভেলায় করে পারি দিতে হবে। মাঝে মাঝে সুন্দর আলো ছায়ার খেলা, দুপাহাড়ের মাঝ দিয়ে কিছু কিছু জায়গায় সূর্যের আলো এসে পরেছে খুমের স্বচ্ছ নীলাভ পানিতে। প্রকৃতিকে খুব কাছে থেকে উপভোগ করতে পারবেন এখানটায়। দেবতাখুম এর ট্রেইল যেমন সুন্দর তেমনি ভয়ংকর। বর্ষায় গেলে ট্রেইলের ঝিরি/পাহাড়ের রূপে যেমন আপনার চোখ আটকাবে তেমনি পিচ্ছিল পাথুরে পথে পা ফসকে বড় ধরনের বিপদে পড়ার আশঙ্কাও থাকে পদে পদে। শীতকালে বৃষ্টি হয়না বলে এই সময় পানি থাকে অনেক স্বচ্ছ, এই খুমে কখনো পানি শুকায় না। খুমে ঘোরার জন্য বাশের ভেলা আর নৌকা দুটোই আছে। সবারই উচিৎ লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করা, লাইফ জ্যাকেট দেবতাখুমের ওখানেই আছে, আলাদা কোন খরচও নেই। দেবতাখুম দিন দিয়ে সেই দিনেই ফেরত আসা যায় বলে বেশ ভিড় থাকে, তাই সম্ভব হলে সরকারী ছুটি এবং শুক্র-শনিবার এড়িয়ে গেলে ভিড় কিছুটা কম পাবেন। দেবতাখুম দেখে বিকেলের দিকে কচ্ছপতলী বাজারে এসে দুপুরের খাবার (ভাত, আলু ভর্তা, মুরগী,ডাল) খেয়ে রওনা হই বান্দরবানের উদ্দেশ্যে। রাতে পাহাড়ের চূড়ায় ক্যাম্পিং করবো তাই বান্দরবান থেকে সব বাজার করে নিতে হবে। এটার কৃতিত্ব ভিউ আপু আর বাপ্পি ভাইয়ের। সুরমা মাছ, মুরগী সহ সব কিছু নিয়ে আবার জীপে উঠে বসলাম। খাবার পানি নিতে ভুললাম না। ঘন্টা খানেক চলার পর জীপ থেকে নেমে সবাই বাজার এবং পানি ভাগ করে নিলাম, ট্র্যাকিং শুরু এখান থেকে। এরই মধ্যে রাত নেমে এসেছে, পূব আকাশে পাহাড়ের উপর থেকে উকি দিচ্ছে বিশাল চাঁদ মামা, মাত্র ২ দিন আগে গিয়েছে ভরা পূর্ণিমা। টর্চের আলোয় উচু নিচু পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে এক সময় এসে পৌঁছালাম পাহাড়ের চূড়ায়, আমাদের ক্যাম্প হবে এখানেই। টর্চের আলোয় যার যার মত তাবু পিচ করে নেই। ভিউ আপু, খান ভাই এবং আমাদের পাইলট দাদা পাওয়ার ব্যাংকের লাইটে ক্যাম্পের একসাইডে আমাদের রাতের খাবার রান্না-বান্নায় ব্যস্ত হয়ে পরলেন (বেগুন ভর্তা, খিচুড়ি, মুরগির মাংস), অন্যদিকে সবুজ ভাই বার্নারে চা বানালো সবার জন্য। ঝড়ো বাতাসে তাবুতে বসে চললো আমাদের আড্ডা, আকাশের চাঁদে চারিদিক ছিল দিনের মত উজ্জল। এরই মাঝে পাশের তাবুতে আনোয়ার ভাই বিভিন্ন রিদমের নাসিকা গর্জন চলছে। বছরের প্রথম রাত, খাওয়া দাওয়া শেষ করে আড্ডাবাজি করে চাঁদের আলোতে তাবুতে ঘুম। সকাল ৬টায় উঠে বাহিরের মেঘ দেখি মেঘের ভেলা, একটু পর পূব আকাশে পাহাড়ের পিছন থেকে উকি দিলো সূর্য। মেঘের সমুদ্রের সাথে সূর্যোদয় দেখে আবার ঘুম। সকাল ৯টায় ঘুম থেকে উঠে কলাপাতায় খিচুড়ি আর মুরগীর মাংস দিয়ে নাস্তা। নাস্তা শেষে চায়ের সাথে চললো আড্ডা। পূবে দুরে বাংলাদেশের সীমান্তের শেষ পাহাড়শারি দেখা যাচ্ছে, আকাশ পরিষ্কার থাকলে শুনলাম পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের তটরেখাও দেখা যায়। দুপুরের দিকে তাবু গুটিয়ে চলে গেলাম জুম ঘরে। এরপর চললো জুমঘরে ল্যাটানো, উনো খেলা, আর সাথে সুরমা মাছ ভাজা। বিকেলে সবাই সব কিছু গুটিয়ে বেরিয়ে পরলাম। পাহাড় থেকে নেমে সাজু ভাইয়ের ক্যাফে নীলে গিয়ে আবার ল্যাটানো। এরই মধ্যে দলের অনেকে চললো নীলগিরি তে, সূর্যাস্তের সময়টা উপভোগ করতে। ক্যাফে নীলে চা-কফি খেয়ে সন্ধ্যার দিকে চলে এলাম বান্দরবান। এই ট্রিপে জাফর ভাইকে আমরা খুব মিস করেছি, উনি আমাদের সাথে থেকেও যেন ছিলেন না (বেচারার মন খারাপ ছিল)। বিঃ দ্রুঃ খুব শীঘ্র ক্যাম্পিং সাইটের সব কিছু ঠিক করে লোকেশন পিন পয়েন্ট করে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। …………………………………………………………………………. দেবতাখুমের খরচঃ · ঢাকা – বান্দরবানঃ নন-এসি বাস ৬২০/- এসি বাস · বান্দরবান – কচ্ছপতলি বাজারঃ জীপ ১৮০০/- থেকে ২০০০/- অথবা (বান্দরবান থেকে রোয়াংছড়ি বাস ভাড়া-৬০ টাকা রোয়াংছড়ি থেকে কচ্ছপতলী সিএনজি ভাড়া আনুমানিক ১৫০-২০০ টাকা · ভেলা এবং লাইফ জ্যাকেট ভাড়া ১৫০ টাকা জনপ্রতি। · গাইডের খরচ মোট-১০০০ টাকা। · দুপুরের খাবার খরচ- ২০০ টাকা জনপ্রতি। · যেহেতু ক্যাম্প গ্রাউন্ড এখনও পুরোপরি সবার জন্য খোলা হয়নি, তাই আমাদের ক্যাম্পিং এর বিস্তারিত খরচ এখনই প্রকাশ করছি না। এতে অন্যরা বিভ্রান্ত হতে পারেন। কিছু তথ্যঃ · রোয়াংছড়ি পুলিশ ফাঁড়িতে এন্ট্রি করতে হয়। · কচ্ছপতলীতে গিয়ে গাইডসহ আর্মি ক্যাম্পে রিপোর্ট করতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের/পাসপোর্ট এর দু কপি ফটোকপি রাখা আবশ্যক! · নেটওয়ার্ক এ সমস্যা হবে!! কচ্ছপতলী তে শুধু রবি/এয়ারটেল এর নেটওয়ার্ক পাবেন!! কিন্তু সেখান থেকে খুম পর্যন্ত যাওয়া আসার পথে আপনি পুরোটাই নেট ওয়ার্কের বাইরে থাকবেন। · দেবতাখুম যাওয়ার পথে শীলবান্ধা ঝর্না নামে একটা ঝর্না পাবেন। যাওয়ার পথে ঝর্নাটা দেখে যেতে ভুলবেন না। · বর্ষাকালেই খুমের আসল সৌন্দর্য দেখা যায়। তবে শীলবান্ধা ঝর্নার পরের ট্রেকিংটা খুবই চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে কারন ঝিরিপথ খুবই পিচ্ছিল থাকে। তাই এই ব্যাপারে আগে থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা ভালো। · অবশ্যই মনে রাখবেন রোয়াংছড়ি বাজার থেকে বান্দরবানের শেষ বাস বিকাল ৫টায়। এরপর আর বাস নাই। তবে সিএনজি সবসময় পাবেন। · কচ্ছপতলি বাজারে ট্যুরিস্টদের রাতে থাকার ব্যবস্থা আছে তবে আগে থেকে বলে রাখা ভালো। · আদিবাসীদের কালচারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করুন। এমন কিছু বলবেন না, যেটি অন্যকোনো জাতির মানুষ আপনাকে বললে আপনারও খারাপ লাগতো। · কোনো প্রকার অপচনশীল বস্তু পাহাড়ে ফেলবেন না। শুধু পাহাড় নয়, শহরেও ফেলবেন না। এটি আপনার ব্যক্তিত্বকে রিপ্রেজেন্ট করে। প্রকৃতিকে পরিশুদ্ধ রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব তাই ভ্রমনে যেয়ে যেখানে সেখানে ময়লা ও অপচনশীল প্যাকেট (চিপসের প্যাকেট, বিস্কুটের প্যাকেট, পানির বোতল, পলিথিন, সিগারেটের উচ্ছিষ্ট অংশ ইত্যাদি) ফেলা থেকে বিরত থাকুন। ভ্রমণ হোক আনন্দময়, নিরাপদ, দায়িত্বশীল। চিপসের প্যাকেট, পানির বোতল এ রকম জিনিস সেখানে সেখানে ফেলে পাহাড়ের পরিবেশ নষ্ট করবেন না….।

  • লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়ি, নরসীংদি

    লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়ি, নরসীংদি

    আগের রাতে CNS Arena তে ক্যাম্পিং করার পর সকাল ১১টার দিকে আমরা সব কিছু গুছিয়ে চললাম জমিদার বাড়ি দর্শনে🏰। CNS Arena ক্যাম্প সাইট থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার গেলেই নরসীংদির ডাঙ্গা বাজার। বাজার থেকে ডানে কিছু দুর এগোলেই লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়ি, স্থানীয় ভাবে এটা উকিল বাড়ি নামেও পরিচিত। লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়িটি দ্বিতল বিশিষ্ট্য একটি ভবন। ভবনের মেছেতে কষ্টি পাথর দিয়ে ঢালাই করা। ছোট্ট একটি কারুকার্য খচিত দালান, বাগানবাড়ি, সাঁন বাঁধানো পুকুর ঘাট, পূজো করার জন্য পুকুরের চারপাশে তিনটি মঠ বা মন্দির ছিল (যার মাত্র একটি এখন অবশিষ্ট রয়েছে)। জমিদার লক্ষণ সাহা এই জমিদার বংশের মূল গোড়াপত্তনকারী। তবে কবে নাগাদ এই জমিদার বংশ এবং জমিদার বাড়িটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তার সঠিক তথ্য জানা যায়নি। লক্ষণ সাহার তিন পুত্র সন্তান ছিল। এদের মধ্যে ছোট ছেলে ভারত ভাগের সময় ভারতে চলে যান। এরপর পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার অল্প কিছুদিন আগে বড় ছেলেও ভারতে চলে যান। থেকে যান মেঝো ছেলে। তার ছিল এক পুত্র সন্তান। যার নাম ছিল বৌদ্ধ নারায়ণ সাহা। এই বৌদ্ধ নারায়ণ সাহাই পরবর্তীতে আহম্মদ আলী উকিলের কাছে উক্ত বাড়িটি বিক্রি করে দেন। তাই আহম্মদ আলী সাহেব পেশায় একজন উকিল হওয়াতে বর্তমানে অনেকে এই বাড়িটিকে উকিল বাড়ি নামেও চিনে। (সূত্রঃ wikipedia) বাড়ির শৈল্পিক সৌন্দর্য দেখার মতো। অবহেলার দরুন বাড়িটির জীর্ণ দশা হলেও একটু যত্ন এবং সামান্য মেরামত করলেই এটি হতে পারে নরসীংদির পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ। জমিদার বাড়ি দর্শন শেষে তমাল ভাইয়ের প্রস্তাবে স্থানীয় একটি দোকানে সুস্বাদু দৈ খেলাম। মুখে দেওয়ার সাথে সাথেই টের পেলাম একদম ভেজাল ছাড়া ফ্রেশ জিনিষ। এবার ফেরার পালা, শুক্রবার হওয়ায় রাস্তা ঘাট ফাঁকা, তাই খুব তাড়াতাড়িই বাসায় চলে আসতে পারলাম। 🗺️Google map location: 📍Zamindar bari- https://goo.gl/maps/pzxTBpnboib1i97C6 ⚠️প্রকৃতিকে পরিশুদ্ধ রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব তাই ভ্রমনে যেয়ে যেখানে সেখানে ময়লা ও অপচনশীল প্যাকেট (চিপসের প্যাকেট, বিস্কুটের প্যাকেট, পানির বোতল, পলিথিন, সিগারেটের উচ্ছিষ্ট অংশ ইত্যাদি) ফেলা থেকে বিরত থাকুন। ভ্রমণ হোক আনন্দময়, নিরাপদ, দায়িত্বশীল।

  • Camping near DHAKA

    Camping near DHAKA

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সবুজ ভাইয়ের ম্যাসেজ “তোমার না আমার সাথে আজ ক্যাম্পিং এ যাওয়ার কথা? কোথায় আছো, রেডি হও, আসতেছি ঘণ্টা খানিকের মধ্যে বাইক নিয়ে।” আমি তখন অফিসে, কোনো রকম প্রস্তুতি নেই 😮 সবুজ ভাইকে বললাম, উনি আশ্বস্ত করলেন, “🏕️তাবু থেকে শুরু করে যা যা লাগবে সব ওখানেই আছে, কিচ্ছু লাগবেনা।” আরকি, সবুজ ভাইয়ের সাথে বের হয়ে পরলাম🏍। ৩০০ ফিট বসুন্ধরা গেইটে জয়েন করলো জুনায়েদ ভাই, ভিউ আপু, বাপ্পি ভাই এবং জহির ভাই। কাঞ্চন ব্রিজ টোল প্লাজা পার হয়ে হাতের বামে Purbachal View Road ধরে ৭ কিলোমিটার এগোলে আতলাপুর বাজার। আতলাপুর বাজার থেকে ২ মিনিট সামনে এগিয়ে হাতের বামে 🏞 শীতলক্ষ্যা নদীর পাশেই ক্যাম্প গ্রাউন্ড CNS Arena. আমাদের আগেই সন্ধ্যায় আনোয়ার ভাই এবং পাভেল ভাই পৌছে গিয়েছিল🚲। ক্যাম্প গ্রাইন্ডে পৌছে দেখি এলাহি ব্যাপার! ☕চা-কফি বিস্কুট রেডি আমাদের জন্য। তাবু পিচ করা, ভেতরে তোশক, বালিশ, লেপ সবই আছে। ক্যাম্প ফায়ারও রেডি🔥। ক্যাম্প গ্রাউন্ডে দুইটা সেই হাই কমোড সহ বাথরুমও আছে🚽! আর বাথরুমে সাবান,শ্যাম্পু, টুথপেস্ট সবই আছে! পুরাই ল্যাক্সারিয়াস ব্যাপার স্যাপার✨। একটু পরেই আমাদের রাতের খাবার চলে আসলো🍽️। খাবার দেখে তো সবাই আর একবার অবাক হবার পালা- খিচুড়ি, মুরগির মাংস, ডিম ভাজি, সালাদ, কোক🥤। আর পরিমান দেখে সবারই একই চিন্তা- এত খাবার কি ভাবে শেষ করবো🤔। খাওয়া দাওয়ার পালা শেষ করে সবাই বসলাম ক্যাম্প ফায়ারের পাশে, গান-আড্ডা আর ভ্রমণ অভিজ্ঞতার ঝুলি নিয়ে। জুনায়েদ ভাইয়ের ফটোসেশন এর মাঝেই চলছে, উনার ছবি দেখে আর কেউ ছবি তোলার সাহসই পেলো না। ফোন দিয়ে যে এত সুন্দর ছবি তোলা যায়, সাথে না থাকলে হয়তো বিশ্বাসই করতাম না। ওহ, এর মাঝে সবুজ ভাই ছিল আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন- “ঢাকার অফিস তাহলে ক্যাম্পিয়েও সম্ভব”, মিটিংয়ে ব্যস্ত🤦‍♂️। গল্প করতে করতে রাত ১টা কখন যে বেজেছে বলতেই পারবো না🕐। এর মধ্যেই চিকেন bbq🍗 আর আমাদের সাথে করে আনা মাছের bbq রেডি। কিন্তু ৩ ঘণ্টা আগেই সবাই ভর পেট ডিনার করার পর কারো পেটে তো আর জায়গা নেই। চিকেন শেষ করার কিছুক্ষন পর আসলো ফিস bbq। মাছের চেহারা দেখে এবার আর কেউ দেরি করলো না, 🥄🔪🗡যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে ঝাপিয়ে পরলো মাছের উপর। মূহুর্তে মাছ গায়েব, যার যার পেটে চলে গিয়েছে। সারারাত গল্প করতে করতে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি ৪টা বাজে। ঘুমানোর পালা, তাবুতে ঢুকে লেপ মুড়ি দিয়ে ঘুম😴। ঘুম ভাঙলো ৬টায়, ভোঁরের আলো তখন ফুটছে কেবল🌞। তাঁবু থেকে বের হলাম, শীতের হালকা ঠাণ্ডা বাতাস, ঘাসের উপর সারা রাত পরা শিশির বিন্দু, তার উপর ভোঁরের সূর্যের আলো পরায় চিকচিক করছে। নদী দিয়ে মাঝে মাঝে মাঝারি আকারের জাহাজ চলে যাচ্ছে🚢। ঢাকার এত কাছে, নদীর পাশে নিরিবিলি পরিবেশে এমন একটা জায়গা, সত্যিই অসাধারন। সবাই ফ্রেশ হবার পর চলে আসলো আমাদের সকালের নাস্তা- পরোটা, ডিম ভাজি, সবজি আর চা। গতকালকের রাতের খাবার, চিকেন bbq(ফিস bbq বাদে), রাতে তাঁবুতে থাকা, সকালের নাস্তা- এই সবই CNS Arena-র প্যাকেজের মধ্যে (জনপ্রতি ১,৫০০ টাকা)। নাস্তা শেষে জাফর ভাই আর বাপ্পি ভাই নামলো নদীতে🏊। আনোয়ার ভাইয়ের পরীক্ষা থাকায় উনি বিদায় নিয়ে চলে গেলেন। ১১টার দিকে আমরা সব কিছু গুছিয়ে চললাম লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়ি দর্শনে🏰।