এই লেখাটিতে একটি পর্বত অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় আইটেমগুলির একটি তালিকা এবং পর্বত অভিযানে প্রয়োজনীয় আরও সাখারণ বিষয়গুলো সংক্ষিপ আকারে তুলে ধরবো৷ লেখাটি কয়েকটি পর্ব আকারে উপস্থাপন করতে যাচ্ছে। অতএব, এই লেখাটি ও পরবর্তী লেখাগুলো পড়ার সময় গুরুত্ব দেবার জন্য অনুরোধ করছি।
পর্বত অভিযান অভিযান পরিচালনা করা ব্যয়বহুল এবং আমরা জানি যে, High Altitude অভিযানগুলো দুঃসাহসিক কাজ হয়ে থাকে। সাধারণভাবে বলতে গেলে, যারা নিয়মিত পর্বত অভিযান করে তাদের বেশিরভাগ লোকের কাছে প্রয়োজনীয় অনেক পোশাক থাকে কারণ তারা ইতিমধ্যেই পেশা, নেশা, আনন্দ, শখ ইত্যাদি হিসাবে হাইকিং এবং পর্বত অভিযান করে। ফলে পর্বত অভিযানের কঠিন ও প্রচণ্ড ঠাণ্ডা পরিবেশের উপযোগী সকল উপকরণগুলোই তাদের থাকে।
পর্বত অভিযানের উপকরণগুলো সবসময় অথরাইজড বা মানসম্পন্ন ও অনুমোদিত বিক্রেতার কাছ থেকে সংগ্রহের বা সরঞ্জাম কেনার সুপারিশ করা হয় কারণ মানসম্পন্ন সরঞ্জাম আপনাকে আশ্বস্ত করবে এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করবে বলে বিশ্বাস করা যায়। অনেকে নতুন সরঞ্জাম কেনার পরিবর্তে সেগুলো ভাড়া করে থাকে। যদি কোন ইকুইপমেন্ট ভাড়া নিয়ে থাকেন, অনুগ্রহ করে অবশ্যই নিশ্চিত হয়ে নিবেন যে সেটি ত্রুটি মুক্ত ও কার্যকর অবস্থায় আছে এবং আপনি এটি ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি একটি জুমার বা এসেন্ডিং ডিভাইস ভাড়া করে থাকেন তবে অবশ্যই নিশ্চিত করুন যে সেটি সম্পূর্ণভাবে কার্যকর আছে এবং কোনপ্রকার ত্রুটি বিচ্যুতি ছাড়াই লক ও আনলক হচ্ছে। পাশাপাশি জুমারের হ্যান্ডেল গ্রিপ, ক্যারাবিনার হোল, ট্রিগার এবং টিথগুলো সঠিক, ভালো ও সুবিন্যাস্ত অবস্থায় আছে।
পোষাকের লেয়ার বা স্তরীকরণ
ট্রেকিং বা পর্বতাহরণে পোষাক নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।পোষাকগুলো এমন হবে যে আপনি কঠিন পরিবেশে সেগুলো পরিধান করবেন এবং তা হতে হবে ফ্লেক্সিবল, এমনভাবে ডিজাইন করা যেন আপনার কম্পোর্টনেস থাকে এবং মাক্সিমাম এফিসিএন্সি নিয়ে কাজ করতে পারেন।
পাহাড়ে কোথাও ট্রেকিং বা অভিযাণের সময় আপনার ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় পোশাকগুলো লেয়ার বা স্তর করে ব্যবহার করা অপরিহার্য। একটি পুরু, ভারী বা মোটা পোষাকের পরিবর্তে একাধিক উপযুক্ত হালকা বা লাইটার স্তরের পোষাক পরিধান করা। এতে করে আপনি পরিস্থিরিত সাথে ভালভাবে মানিয়ে নিতে সক্ষম হবেন। কারণ যে কোন সময়ে আবহাওয়া পরিবর্তরের সাথে সাথে বা পরিশ্রমের সাথে সাথে পোষাকের স্তর খুলে রাখতে পারেন বা পরিধান করতে পারেন।যেমন বলা যায় যে, সকালে ট্রেকিং শুরু করার সময় ঠাণ্ডা বেশি অনুভূত হয় তবে কিছু সময় ট্রেকিং করতে থাকলে গরম অনুভূত হয় বা ঘাম হতে থাকে। সেক্ষেত্রে কিছু পোষাক খুলে রাখা। অন্যক্ষেত্রে আবহাওয়া খারাপ হয়ে আসলে বা ঠাণ্ডার পরিমাণ বেশি অনুভূত হলে প্রয়োজনীত পোশাক পরিধান করা।
পোষাকের স্তরকে তিনটি ভাগে উল্ল্যেখ করা যায়; বেস লেয়ার, মিড লেয়ার এবং আউটার লেয়ার।
প্রথমে আসি বেজ লেয়ারের কথায়ঃ
– এটি প্রথম লেয়ার। এটিকে আমরা অনেকেই ইনারও বলে থাকি। বিশেষ করে থার্মাল ইনার শব্দগুলোই বেশি পরিচিত।
– এই লেয়ারটি আর্দ্রতা দূর করে ত্বককে শুষ্ক রাখে।
– এই লেয়ারটি স্বাভাবিকভাবেই হালকা ও দ্রুত শুকিয়ে যায় এমন হয়।
– কটন নয়। ভেজা অবস্থায় ত্বকে লেগে থাকে, ইনসিউলেশন হয় না এবং ড্রাই হতে বেশি সময় নেয় এমন হওয়া উচিৎ নয়।
মিড লেয়ারঃ
– এটি উষ্ণতা বা ইনসিউলেশন লেয়ার/ নিরোধক লেয়ার। এটি গরম বাতাসকে ভিতরে রাখে এবং ঠান্ডা বাতাসকে বাইরে রাখে।
– তাপমাত্রা এবং পরিবেশের উপর নির্ভর করে এই লেয়ারটি একাধিক আইটেম হতে পারে।
– সাধারণত ফ্লিস, ডাউন বা সিন্থেটিক ইনসুলেশন হয়ে থাকে এই স্তরে।
– ফ্লিসগুলি দ্রুত শুকানোর জন্য এবং ব্রিথেবল উষ্ণতার জন্য বেশ ভালো। অতি ঠান্ডা তাপমাত্রায় বা রাতে ক্যাম্পে বা কিছুটা অলস কাজে (Low intensity activities) ডাউন অত্যন্ত কার্যকর ও শরীর উষ্ণ রাখার জন্য দুর্দান্ত।
আউটার লেয়ারঃ
– বাতাস, বৃষ্টি এবং তুষার থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।
– এটি বায়ুরোধী এবং জলরোধী উভয়ই হওয়া উচিৎ। তবে বেস লেয়ার ও মিড লেয়ার থেকে আর্দ্রতা ও অতিরিক্ত তাপকে বের করে দেবার জন্য আউটার লেকার ব্রিথেবল হওয়া উচিৎ।
পাদুকা (জুতা)
নিঃসন্দেহে জুতা ট্রেকিং ও পর্বতারোহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ব্যক্তিগত এবং গুরুত্বপূর্ণ পছন্দের উপকরণ। আপনার জ্যাকেট, কিছুটা ঢিলেঢালা বা একটু টাইট হলেও এটি তার কাজ করবে। যদি আপনার জুতা ছোট বা বড় হয় তবে ভাবুনতো একবার কেমন পরিস্থিতি হবে! ছোট হলে আপনার পায়ের নখ উঠে যেতে পারে বা নখ আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে। অপর দিকে বড় হলে আপনার পায়ে বিরক্তিকর ফোস্কা (Blister) সৃষ্টি করতে পারে। ব্রিটিশ সেনাবাহিনী তাদের পরিধেয় বুটকে তাদের ল্যান্ড রোভার বলে – এগুলো সৈনিকদের অউটডোর কিটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
অতএব, দোকানের তাক থেকে আপনার দিকে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা শত শত সুন্দর ডিজাইনের ও রঙের আকর্ষনীয় জুতা থেকে কিভাবে আপনি একটি ট্রেকিং বা একটি পর্বতের জন্য সঠিক জুতা বাছাই করবেন? ট্রেকিং বা পর্বতারোহণে যাবার আগে উপযুক্ত জুতা বাছাই করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বুদ্ধিমানের মত কাজ। অন্যথায় হিতে বিপরীত হতে সময় লাগবে না। এমনও হতে পারে যে ট্রেকিং বা পর্বতারোহণের মাঝ পথেই আপনাকে শুধু মাত্র জুতার কারণে ফিরে আসতে হতে পারে। এই অংশটি পড়ার পরে, আশা করি আপনি যে ট্রেকিং বা যে পর্বতে যান না কেন সঠিক জুতা বাছাই করে নিতে পারবেন।
সাধারণ উপদেশ
* একটি স্বনামধন্য ও ব্রান্ডেড অ্যাডভেঞ্চার দোকান থেকে জুতা ক্রয় করবেন।
* দোকানে এটেন্ডেন্টকে বলুন আপনি আপনার জুতা কোথায় ও কি কাজে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছেন এবং তার পরামর্শের জন্য জিজ্ঞাসা করুন।
* জুতা কিনতে তাড়াহুড়ো করবেন না। সময় নিন, একাধিক জুতা পরিধান করে দেখুন। যদি আপনি সেগুলো নিয়ে কম্ফোর্টেবল ফিল না হন তবে একটি ভিন্ন জোড়া ট্রাই করুন৷ জুতার জন্য আপনাকে একটি বড় অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে তাই অবশ্যই সঠিক জুতা বেছে নিন।
* আপনার জুতায় অবশ্যই টো সাপোর্ট (Toe Guard) গোড়ালি সাপোর্ট (Ankle Guard) থাকা উচিত। পা মচকানো বা গোড়ালি মচকানোর জন্য পর্বত হচ্ছে একটি অত্যন্ত উপযুক্ত স্থান। জুতায় Ankle Guard থাকলে আপনার পা বিশেষ সুরক্ষিত থাকে।
* জুতা অবশ্যই পানি নিরধক হওয়া উচিৎ।
* ট্রেকিং-এ জুতা পরিধান করে আপনি কতটা কম্ফোর্ট ফিল করছেন সেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এমন জুতা কখনই কিনবেন না যা আপনার পা কে কম্ফোর্ট দেয় না। সেই সাথে ট্রেকিং জুতার সোল হতে হবে ফ্লেক্সিবল ও তুলনামূলক হালকা।
* জুতায় অবশ্যই ভালো গ্রিপ করার ক্ষমতা থাকতে হবে।
* বর্তমানে ব্রিথেবল জুতাও পাওয়া যায়।
পাহাড়ের জুতারর ক্ষেত্রে আমাদের মনের মধ্যে ২টি বিকল্প চিন্তা আছে। একটি নিয়ম হিসাবে, জুতা যত ভারী হবে তত গরম হবে এবং বুট যত হালকা হবে আপনার নমনীয়তা এবং গতি তত বেশি হবে। এটি লক্ষ রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, যদি আবহাওয়া খারাপ হয়ে যায, তাপমাত্রা কমে যায় এবং বৃষ্টি শুরু হয়, তবে শরীরের প্রান্তস্থ (Peripheral)অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলি প্রথমে আক্রান্ত করে। সুতরাং, জুতা পছন্দ অবশ্যই এমন অবস্থার কথা বিবেচনা করেই নিতে হবে।
হাই এল্টিটিউড ট্রেকিং ও পর্বতারোহণের জন্য জুতার বিষয়টি ৪টি ক্যাটাগরিতে আলাদা করে উল্ল্যেখ করে কথা বলে যায়ঃ
মাউন্টেনিয়ারিং বুট (৭০০০-৮০০০ মিটারের পর্বতের জন্য):
* মেরু অঞ্চল ও হাই এল্টিটিউড মাউন্টেইনের পরিবেশের জন্য বিশেশভাবে প্রস্তুত করা।
* যারা নিয়মিত পর্বতারোহীদের জন্য উপযুক্তভাবে প্রস্তুতকৃত।
* ১.৫ কেজি(৩.৩ পাউন্ড)-এর বেশি ওজনের হয়ে থাকে।
* হাই অউটার লেয়ার, ডাবল হুল ও লুপ বন্ধ থাকে।
* ক্রাম্পন আটকানোর সুবিধা থাকে।
* গেইটার সংযুক্ত থাকে।
* পর্বতে ব্যবহার্য্য অন্যান্য প্রকারের জুতার তুলনায় অধিক ব্যয় বহুল।
আল্পাইন বুট (৬০০০ মিটার উচ্চতার জন্য):
* পর্বতের পরিবেশের জন্য উপযুক্ত করে প্রস্তুত।
* নিয়মিত বড় পর্বত আরোহীহণের জন্য প্রস্তুত করা।
* ১ কেজি বা ২.২ পাউন্ডের বেশি ওজন হয়ে থাকে।
* সোল অধিকতর শক্ত।
* এঙ্কেল উচ্চতর হয়ে থাকে।
* ক্রাম্পন আটকানোর সুবিধা থাকে।
* ট্রেকিং বুটের তুলনায় ব্যয় বহুল
হেভী ওয়েট ট্রেকিং বুটঃ
* সাধারণত সম্পূর্ণ চামড়া দিয়ে তৈরী হয় তবে বর্তমানে কিছু কিছি সিনথেটিক ম্যাটেরিয়াল দিয়েও তৈরী করা হয়ে থাকে।
* ১ কেজি বা ২.২ পাউন্ডের বেশি হয়ে থাকে।
* সাধারণত ক্রাম্পন লাগানো যায় না। তবে কিছু কিছু বুটে ক্রাম্পন লাগানো যেতে পারে।
* দীর্ঘ ব্যবহারকাল, ওয়াটার প্রুফ ও উষ্ণ হয়ে থাকে।
* ব্যয় বহুল হয়ে থাকে।
লাইট ওয়েট ট্রেকিং বুটঃ
* সাধারণত ১ কেজি (২.২ পাউন্ড) থেকে ১.৫ কেজি (৩.৩ পাউন্ড) ওজনের হয়।
* ব্যাকপ্যাকারদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় জুতা।
* প্রায়শই সিনথেটিক ম্যাটেরিয়াল, সোয়েড ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে প্রস্তুত করা হয়ে থাকে।
* এগুলো আরামদায়ক, ব্রিথেবল ও কুইক ড্রাই হয়ে থাকে।
* নতুন অবস্থায় এই জুটাগুলো ওয়াটার প্রুফ, ব্রিথেবল হয়ে থাকে তবে বারবার ব্যবহার ও সময়ের সাথে সাথে এই বৈশিষ্টগুলো কার্যকারিতা হারায়।
* হেভী ওয়েট ট্রেকিং বুটের তুলনায় কম টেকসই হয়।
পর্বত
যেহেতু ট্রেকিং ও পর্বতারোহণে কেমন বুট ব্যবহার করা হয় সে বিষয়ে কথা হয়েছে তাই এবার দেখা যাক পর্বতে কেমন আবহাওয়াগত পরিস্থিতি থাকতে পারে। বিশেষত ৬০০০ মিটার বার এর বেশি উচ্চতায় কেমন অবস্থা বিরাজ করতে পারে।
তাপমাত্রা
এক কথায় চরম বৈচিত্রময় ও উদাসীন। পর্বতের নিচের অংশে দিনের বেলায় ২০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মাঝামাঝি পর্যন্ত এবং পর্বতের চূড়ার দিকে (ঠান্ডা বাতাস সহ) হিমাঙ্কের নিচে ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে। পর্বতে ফ্রস্ট নিপ (Frost Nip) বা ফ্রস্ট বাইট (Frost Bite) অঙ্গ নিয়ে চলার থেকে উষ্ণ পা নিয়ে চলা সহজ। তাই পরামর্শ হচ্ছে, অবশ্যই ঠান্ডাকে বিবেচনা করে উপযুক্ত পোষাক ও জুতা চয়ন করা।
বৃষ্টি
যদিও অধিকাংশ ট্রেকিং অঞ্চলে বর্ষা মৌসুমের বাইরে (জুন-আগস্ট) সচরাচর ব্যতিক্রম ছাড় বৃষ্টি দেখা যায় না, তবুও এই উপমহাদেশে পর্বতাঞ্চলে কিছু সময়ের জন্য বর্ষা মৌসুমের বাইরেও বৃষ্টি আশা করাই যায়। তাই পা শুষ্ক ও উষ্ণ রাখতে উন্নতমানের গোর্টেক্স ওয়াটারপ্রুফ বুট পরিধান করা এবং গোর্টেক্স ও ব্রিথেবল আউটারশেল সাথে রাখা বঞ্চনীয়। সেই সাথে একটি মানসম্পন্ন পঞ্চ সাথে রাখতে হবে।
স্নো বা তুষার
উচ্চতার সাথে তুষারপাতের ধরণ ও পরিমাণের ভিন্নতা হয়। বছরের যে সময়ে আপনি ট্রেকিং বা পর্বতারোহণ করতে চান তার উপরও তুষারপাতের বিষয়টি নির্ভর করে থাকে। মাউন্টেনিয়ারিং বুট ও আপ্লাইন বুটগুলো তুষারের মধ্যে টেকনিক্যালি ও ক্রাম্পনসহ ববহারের উপযুক্ত করে প্রস্তুত করা হয়। অনেক বুটের সাথে গেইটার যুক্ত থাকে (Built in Gaiter)।আপনি যদি প্রফেশনাল পর্বতারোহী না হয়ে থাকেন বা হাই এল্টিটিউড পর্বতারোহী না হইয়ে থাকেন এবং ট্রেকিং করে থেকেন ও অল্প সময়ের জন্য তুষারময় বা বরফের অংশে (Snow and Ice Bound Zone) ট্রেকিং করেন তবে আপনি ট্রেকিং বুটের সাথে এক জোড়া ইয়াক্ট্রাক্স (Yaktrax) বা (যেটাকে আমরা অনেক সময় মাইক্রো স্পাইক ক্রাম্পন বলে থাকি) ব্যবহার করবেন। এগুলো খুব হালকা হয় এবং যে কোন নন-টেকনিক্যাল বুট বা লাইট ওয়েট ট্রেকিং বুটের সাথে মানানসই ও সহজে ব্যবহার করা যায়। স্নো বা আইসের উপরে ট্রেকিং করার সময় পায়ে ঠান্ডা লাগতে পারে তাই বুটের ভেতরে অন্তত একটি বা প্রয়োজনে একাধিক ভালো মোজা ব্যবহার করা অপরিহার্য।
আপনার পা
পা সবার কাছেই উইনিক ও গুরুত্বপূর্ণ। এই গুরুত্বের কারণ উল্ল্যেখ করা বা বর্ণনা করা বৃথা প্রচেষ্টা মাত্র। তাই আপনার পায়ের উপর পরামর্শ দেওয়ার বিষয়টি নাই বা বললাম। তবে একটা কথা না বলে পারছি না। আপনার পায়ের ধরণ, আপনার পায়ের আঙ্গুলের দৈর্ঘ্য (Toes), পায়ের প্রস্থ, এবং এমনও হতে পারে যে অতীতে আপনি পায়ে যদি কোন আঘাত পেয়ে থাকেন সেগুলোও চলার সময় আপনার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। পা এবং জুতা সম্পর্কের আরেকটি কথা বলতেই হচ্ছে, বিভিন্ন ব্রান্ডের জুতা বিভিন্ন ধরনের বা সাইজের পায়ের জন্য ভালো ফিট হয়। অর্থাৎ এক ব্রান্ডের জুতা সবার পায়ে ঠিক হবে এমনটা নয়। একেকজনের পায়ের জন্য একেক ব্রান্ডের জুতা ফিট হতে পারে। কিছু মডেলের জুতা চওড়া পায়ের জন্য প্রস্তুত করা হয় আবার কিছু মডেলের জুতা অপেক্ষাকৃত কম চওড়া পায়ের জন্য উপযুক্ত করে তৈরী করা হয়।
সাইজ
দেখুন, দীর্ঘ সময় ভ্রমণের কারণে আপনার পা ফুলে যেতে পারে। উষ্ণ পরিবেশে হাইকিং বা ট্রেকিং করার সময় এটি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। জুতার দোকানে দেখতে সুন্দর অনেক জুতা থাকে যেগুলো ট্রেকিং-এ ব্যবহার করলে সম্ভবত কয়েকদিন পরেই অস্বস্তির কারণ হয়ে যেতে পারে।
জুতা ব্যক্তিগত পছন্দের উপকরণ তবে ট্রেকিং ও পর্বতারোহণের ব্যাপারে এটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত পছন্দের থেকেও অধিক গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় অনেকে সুন্দর দেখা যায় বা ছবিতে ভালো দেখা যাবে এ জন্য কিছুটা ত্যাগ স্বীকার করে কিছুটা আঁটসাঁট জুতা বেছে নেন। আঁটসাঁট বুট বা জুতাগুলো বিশেষ করে নিচে নামার সময় বা অবতরণের (Descending) সময় পায়ের আঙ্গুল ও নখগুলোকে বেশি পিড়া দেয়। এভাবে বেশি সময় ট্রেকিং করলে আঙ্গুল আঘাত প্রাপ্ত হবে ও নখ উঠে যেতে পারে। যদি সম্ভব হয়, আপনি যে মোজা ব্যবহার করে ট্রেকিং করবেন সেই একই মোজা পরে জুতা কেনার জন্য ট্রায়াল দিবেন।
জুতা কেনার পর ট্রেকিং-এ যাবার পূর্বে অবশ্যই কয়েকদিন নিয়মিত ব্যবহার করবেন। এতে করে জুতা আপনার পায়ে মানিয়ে নিতে সময় পাবে। এ কথা বিশেষভাবে সত্য যে, সম্পূর্ণ নতুন জুতা বা বুট নিয়ে দীর্ঘ ট্রেকিং শুরু করার পর ফোস্কা পরা অনেক বেশি বিরক্তিকর হতে পারে।
লেখাঃ Shahadat Hossain Sarker